
রাস্তাঘাটে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি উচ্চতার মানুষদের দেখলে আমরা আপনাআপনিই থমকে যাই, ড্যাব ড্যাব চোখে তাদের দিকে চেয়ে থাকি। আমাদের দেশের মানুষের স্বাভাবিক উচ্চতা তুলনামূলক কম হওয়ায় এমনটা প্রধানত ঘটে থাকে বিদেশিদের সাথেই।
ইতিহাস ঘাঁটালেও আমরা এমন কিছু মানুষেরই সন্ধান পাবো, যাদের অতিকায় উচ্চতা সম্পর্কে জানলে আশ্চর্য না হয়ে পারা যায় না। তাদের খাদ্যাভ্যাস আমাদের বলতে বাধ্য করবে, “এত খেত কীভাবে?” ওদিকে তাদের অসুরের ন্যায় শারীরিক শক্তিও আমাদের স্তব্ধ না করে পারবে না।
আজকের লেখায় আমরা এমন কিছু মানুষের সাথেই পরিচিত হবো।
১. ফিওদর মাখনভ
১৮৭৮ সালের জুনে কাসচিউকিতে (বর্তমানের বেলারুশ) জন্মগ্রহণ করেন ফিওদর মাখনভ। আট বছর বয়স থেকে তার শারীরিক বৃদ্ধি বেশ দ্রুতগতিতে হতে থাকে। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার হয়ে যান। তার জন্য কাপড়চোপড়, জুতা সবই বিশেষভাবে অর্ডার দিয়ে বানাতে হতো। এত বড় মানুষটির খাটও হতো বিশালাকৃতির। পরিণত বয়সে তার বুটগুলো এতটাই বড় হতো যে, সেগুলো একজন স্বাভাবিক উচ্চতার মানুষের কোমর পর্যন্ত চলে যেত। এমনকি লুকোচুরি খেলার সময় বাচ্চারা তার বুটজুতার ভেতর গিয়ে লুকতো বলেও শোনা যায়!
১৪ বছর বয়সে সার্কাসে যোগ দিয়ে ১৬ বছর বয়স থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কসরত দেখানো শুরু করেন মাখনভ। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তার উচ্চতা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের মতামত থাকলেও, শেষপর্যন্ত তিনি ৮ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা ছুঁয়েছিলেন বলেই জানা যায়।

এত বিশালাকার একজন মানুষকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলেরও অন্ত ছিলো না। প্রায়ই তারা তার সাথে দেখা করে মৃত্যুর পর তার দেহটি যেন তাদেরকে দান করে দেয়া হয় সেই ব্যাপারে অনুরোধ করতেন। কিন্তু খুন হয়ে যাবার ভয়ে মাখনভ কখনোই এতে রাজি হননি। এফ্রোসিঞ্জা লেবেদেভা নামক এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। এ দম্পতির ঘরে এক মেয়ে ও তিনি ছেলে জন্ম নেয়।
এমন বিশাল দেহের একজন মানুষের ক্ষুধাও যে অতিরিক্ত হবে সেটাই স্বাভাবিক। তার তিন বেলার খাবারের তালিকাটি দেখা যাক।
- নাস্তা: ২০টি ডিম, ৮টি রুটি ও ২ লিটার চা।
- দুপুরের খাবার: ১ কেজি আলু, ২.৫ কেজি মাংস ও ৩ লিটার বিয়ার।
- রাতের খাবার: ১টি রুটি, ১৫টি ডিম ও ১ লিটার দুধ।
১৯১২ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পরপারে যাত্রা করেন মাখনভ।
২. অ্যাডাম রেইনার
অ্যাডাম রেইনার এমন একজন মানুষ, যিনি জীবনের একপর্যায়ে খর্বকায় এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘকায় ছিলেন। ১৮৯৯ সালে অস্ট্রিয়ার গ্রাজে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদানের চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত খাটো হবার দরুন বাদ পড়ে যান। তখন তার উচ্চতা ছিলো মাত্র ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। পরের বছর আবার চেষ্টা করেন, এবং সেবারও বাদ যান একই কারণে। ১৯ বছর বয়সে তার উচ্চতা ছিলো ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি।

কিন্তু ২১ বছর বয়সে তার দৈহিক গঠনে পরিবর্তন আসতে শুরু করে, হুট করেই তার দৈহিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হতে থাকে। এভাবে একটা সময় তার উচ্চতা ৭ ফুট ১ ইঞ্চিতে গিয়ে ঠেকে! তার মেরুদণ্ড এর ফলে বেঁকে যায়, মুখ ও চোয়াল হয়ে যায় বেশ বড়। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ বন্ধে তাকে চিকিৎসকের ছুরির নিচেও যাওয়া লেগেছে।
এতে করে তার উচ্চতা বৃদ্ধি না থামলেও বৃদ্ধির হারটা কমে আসে। একসময় অসুস্থতার দরুন তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান, শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন এক কানেও। আস্তে আস্তে তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে যান। ৫১ বছর বয়সে যখন রেইনার মারা যান, তখন তার উচ্চতা ছিলো ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি।
৩. অ্যানা হেইনিং বেটস
১৮৪৬ সালের আগস্ট মাসে নোভা স্কশিয়ার মিল ব্রুকে জন্ম নেন অ্যানা হেইনিং বেটস। মাত্র ৫ বছর বয়সেই তার উচ্চতা ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং ওজন ৪৫ কেজি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২২ বছর বয়সে অ্যানার উচ্চতা ছিলো ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং ওজন ১৫৯ কেজি।
১৬ বছর বয়সে তিনি বিভিন্ন শোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ শুরু করেন। তার পাশে সবসময়ই একজন খর্বাকৃতির মানুষকে রাখা হতো, যাতে করে তার উচ্চতাটা আরো বেশি করে চোখে বাধে।

১৮৭১ সালে মার্টিন ভ্যান বুরেন বেটস নামক আরেক দীর্ঘাকৃতির লোকের সাথে পরিচয় হয় অ্যানার, যার উচ্চতা ছিলো ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি (মতান্তরে ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি)। তারা একে অপরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবার পর প্রায়ই বিভিন্ন সার্কাস শোতে একত্রে অংশ নিতেন। তখন তাদেরকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা স্বামী-স্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। এই দম্পতির ঘরও ছিলো বিশেষ ধরনের। দরজার উচ্চতা ছিলো সাড়ে ৮ ফুট, আসবাবপত্রগুলোও ছিলো বেশ বড় বড়।
৪. চ্যাং ইয়ু সিং
১৮৪০ সালে চীনে জন্ম নেয়া চ্যাং ইয়ু সিংয়ের উচ্চতা ছিলো ৭ ফুট ৯ ইঞ্চি। একসময় তিনি সম্রাটের দরবারেও কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত সফরের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে গিয়ে প্রায় দু’বছর কাটিয়ে আসেন সেখানে। এই সময়কালে অনেক লোক ৩ শিলিং করে খরচ করতো শুধুমাত্র তাকে একনজর দেখার উদ্দেশ্যে।

এরপর তিনি ইউরোপের অন্যান্য অংশ ভ্রমণে বের হন। প্রায় সময়ই তাকে অ্যানা বেটসের মতো একজন বামনাকৃতির লোকের পাশে প্রদর্শনে করা হতো। ১৮৮১ সালে চ্যাং পি.টি. বার্নামের সার্কাসে যোগ দেন। তার নারী ভক্তের সংখ্যাও ছিল অগণিত।
১৮৯৩ সালে ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন চ্যাং। তার কফিনটি ছিলো প্রায় সাড়ে ৮ ফুট লম্বা।
৫. জোসেফ এডওয়ার্ড বিউপার
১৮৮১ সালের ৯ জানুয়ারি সাসকাচোয়ানের উইলো বাঞ্চ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন জোসেফ। তার বাবা-মা স্বাভাবিক আকৃতির মানুষ ছিলেন। ৩ বছর বয়স পর্যন্ত তার দৈহিক বৃদ্ধিও হচ্ছিলো একজন সাধারণ মানুষের মতোই। বিপত্তিটা বাধে এর পর থেকেই। ৯ বছর বয়সে তিনি উচ্চতার দিক দিয়ে তার বাবা-মাকে ছাড়িয়ে যান। ১২ বছর বয়সে তার উচ্চতা ছিল ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। ১৭ বছর বয়সে সেটা ৭ ফুট ১ ইঞ্চিতে গিয়ে ঠেকে। এ বয়সেই ৩৬৩ কেজি ওজনের একটি ঘোড়াকে উপরে তুলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি।

বেশ বড় আকারের জুতা লাগতো তার। ইচ্ছা ছিলো রাখাল হবার। কিন্তু যখন দেখলেন ঘোড়ার পিঠে চড়লেও তার পা মাটিতে গিয়ে ঠেকে, তখন এ স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হয় তাকে। ২১ বছর বয়সে তাই তিনি যোগ দিয়েছিলেন সার্কাস দলে। কিন্তু সেখানের চাপ তিনি নিতে পারেনি, ঘুমে খুব সমস্যা হতো। এভাবে থাকতে থাকতে একসময় যক্ষ্মাই বাধিয়ে ফেলেন তিনি।
১৯০৪ সালে জোসেফের উচ্চতা কত ছিলো শুনবেন? ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি! সেই বছরই এক সার্কাস শো’র পর কাশতে কাশতে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। সেটাই ডেকে আনে তার চিরনিদ্রা। সার্কাস কর্তৃপক্ষ তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের জন্য কোনো অর্থ দানে অস্বীকৃতি জানায়। ওদিকে তার দরিদ্র বাবার পক্ষেও এ ব্যয়ভার বহন ছিলো অসম্ভব। তাই দেহটি সেভাবেই পড়ে থাকে। একসময় বিভিন্ন জায়গায় দেখা যেতে থাকে সেই মৃতদেহটি।
১৯০৭ সালে একটি হ্যাঙারে (বিমান-ছাউনি) জোসেফের মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে দেহটি মন্ট্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়ে মমিতে পরিণত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। ১৯৭০ সালে তার বংশধর ওভিলা লেসপারেন্স কর্তৃপক্ষের কাছে দেহটি চেয়ে বসে। চুরির ভয়ে শুরুতে দিতে না চাইলেও পরে তারা সেটি ঠিকই ওভিলাকে দিয়ে দেয়। অবশেষে ১৯৮৯ সালে শবদাহের মাধ্যমে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
৬. প্যাট্রিক কটার ও’ব্রায়েন
১৭৬০ সালের ১৯ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেন প্যাট্রিক কটার। তার উচ্চতা ছিলো ৮ ফুট ১ ইঞ্চি। ১৮ বছর বয়সে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করেন। মজার বিষয় হলো, ছাদের উচ্চতায় ইট বিছাতে তার সহকর্মীদের যেখানে ছাদের উপর উঠতে হতো, সেখানে তিনি নিচে দাঁড়িয়েই হাত দিয়ে কাজটি সেরে ফেলতে পারতেন।
৭. আর্থার ক্যালে
১৮২৪ সালে আইল অফ ম্যানের সালবিতে জন্মগ্রহণ করেন আর্থার ক্যালে। কৈশোর থেকেই তার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ব্যাপারটি নজরে আসে। শেষপর্যন্ত তার উচ্চতা ৭ ফুট ১১ ইঞ্চিতে গিয়ে ঠেকে, ওজন দাঁড়ায় ১৭৮ কেজিতে। ফলে সবাই তাকে ‘ম্যাঙ্কস জায়ান্ট’ নামে চিনতো।

ম্যানচেস্টার, লন্ডন ও প্যারিসের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নিতেন ক্যালে। কিন্তু এভাবে চলতে চলতে একদিন হুট করেই হাওয়া হয়ে যান তিনি। তার মা দাবি করেন, তার ছেলের হঠাৎ মৃত্যু হওয়ায় তাকে দাফন করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই এতে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কারণ এই ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে ২,০০০ পাউণ্ডের বিনিময়ে নিজের জীবনবীমা করিয়েছিলেন ক্যালে। তাদের মতে, এই অর্থ আত্মসাৎ করতেই সাজানো এ নাটকের আয়োজন করেছিল মা-ছেলে, যেখানে কবরে শুইয়ে রাখা হয়েছিলো একখণ্ড গাছ!
ক্যালে কিন্তু আসলেই মারা যাননি। তিনি চলে যান সোজা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যোগ দেন পি. টি. বার্নামের সার্কাসে। সেখানে ‘কর্নেল রাউথ গোশেন, দ্য অ্যারাবিয়ান জায়ান্ট’ হিসেবে তাকে প্রদর্শন করা হতো। ১৮৮৯ সালে সত্যি সত্যিই তিনি মারা যান।
৮. রবার্ট ওয়াডলো
১৯১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন রবার্ট ওয়াডলো। মাত্র ৫ বছর বয়সেই তার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি ছাড়িয়ে যায়। সেসময় তিনি যেসব জামাকাপড় পরতেন, তা প্রকৃতপক্ষে কিশোরদের জন্য বানানো হতো। ৮ বছর বয়সেই তিনি তার বাবাকে (৫ ফুট ১১ ইঞ্চি) ছাড়িয়ে যান। ১৩ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন বয় স্কাউটে। তখন তার জন্য বিশেষভাবে ইউনিফর্ম, তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগ বানাতে হতো। ১৭ বছর বয়সে তার উচ্চতা ৮ ফুট ১ ইঞ্চিতে পৌঁছায়, যা তাকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘাকৃতির কিশোরে পরিণত করেছে।

পায়ে ব্রেস ব্যবহার করতেন ওয়াডলো, চলাফেরার জন্য লাগতো লাঠি। ১৯৪০ সালে এই ব্রেস থেকে গোড়ালিতে ফোস্কা পড়ে, যা থেকে সৃষ্ট ক্ষত থেকে মাত্র ২২ বছর বয়সে পৃথিবীর আলো-বাতাসের মায়া ত্যাগ করেন তিনি।
এত বিশাল এই মানুষটির জন্য্য কফিনও লেগেছিল বেশ বড়সড়। ১০.৮ ফুট × ৩২ ইঞ্চি × ৩০ ইঞ্চি আকারের ছিলো তার কফিনটি। মৃত্যুর সময় তার উচ্চতা ছিলো ৮ ফুট ১১ ইঞ্চি।
৯. অ্যাঙ্গাস ম্যাকআস্কিল
১৮২৫ সালে স্কটল্যান্ডের আইল অফ বার্নারেতে জন্ম নেন ম্যাকআস্কিল। আজ যাদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলো, তাদের মাঝে কাউকে যদি সত্যিকারের দানব বলতে হয়, তবে তিনি এই ম্যাকআস্কিলই, এমনকি সেটা গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস স্বীকৃতও। অথচ জন্মের সময় তিনি এতটাই ছোট ছিলেন যে, ডাক্তারা তার বেঁচে থাকা নিয়েই শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন।

ম্যাকআস্কিলের উচ্চতা ছিলো ৭ ফুট ৯ ইঞ্চি। তবে শুধুমাত্র উচ্চতার কথা বিবেচনায় আনা হয়নি তার বেলায়। তার বুকের ছাতি ছিল ৮০ ইঞ্চি চওড়া। পায়ের পাতাগুলো ছিলো ১৬ ইঞ্চি লম্বা ও ৮ ইঞ্চি চওড়া। কাঁধের প্রস্থ ছিল ৪৪ ইঞ্চি, হাতের তালুর প্রস্থ ৮ ইঞ্চি। ২২৭ কেজি ওজনের এই মানুষটি অনায়াসে ১,২৭০ কেজি ওজনের নোঙর তুলতে পারতেন। আবার ১৫৯ কেজি ওজনের দুটো ব্যারেল দুই হাতে নিয়ে এর সাথে ৪৫ কেজি ওজনের আরো একটি ভার হাতে তিনি ১০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন।