
মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন অবতরণের এবং এর সংকলনের ইতিহাস অনেকেই জানেন। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ৬০৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাসূল মোহাম্মদ (সঃ)-এর উপর ধীরে ধীরে স্বয়ং আল্লাহ্র কাছ থেকে পবিত্র বাণী অবতীর্ণ হয়, যা একত্রে আল-কুরআন নামে পরিচিত। প্রতিটি আয়াত নাজিলের সাথে সাথেই হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর সঙ্গীরা তা মুখস্ত করে ফেলতেন। অনেকে বিচ্ছিন্নভাবে তা লিখেও রাখতেন। পরবর্তীতে রাসূল মোহাম্মদ (সঃ)-এর মৃত্যুর পর খলিফাদের আমলে নির্দিষ্ট ক্রমে সমগ্র কুরআনকে একত্রিত করা হয়।
ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রাঃ)-এর আমলে কুরআনের সম্ভাব্য ত্রুটিপূর্ণ সবগুলো কপি সংগ্রহ করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়, এবং কুরআনের নির্ভুল, আদর্শ কিছু কপি তৈরি করে ইসলামী সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ সম্পর্কে রোর বাংলার অন্য একটি লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু যে প্রশ্নটা অনেকের মনেই আসতে পারে, সেটা হচ্ছে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে লেখা কুরআন শরিফের কোনো পাণ্ডুলিপি কি এখনো টিকে আছে? থাকলে সেগুলো কোথায় আছে? ঠিক হযরত উসমান (রাঃ)-এর সময় লিপিবদ্ধ কুরআনের পাণ্ডুলিপির সন্ধান পাওয়া না গেলেও বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাদুঘরে এবং গ্রন্থাগারে কুরআনের এমন কয়েকটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে, যেগুলো রচিত হয়েছিল রাসূল (সঃ)-এর মৃত্যুর পর প্রথম কিংবা দ্বিতীয় শতকেই।
চলুন পরিচিত হয়ে নিই কুরআনের প্রাচীনতম কয়েকটি পাণ্ডুলিপির সাথে।
বার্মিংহাম পাণ্ডুলিপি

ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে সংরক্ষিত কুরআনের দুইটি পাতাকে কুরআনের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি বলে ধারণা করা হয়। রেডিওকার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ৯৫.৪% নিশ্চয়তা দিয়ে দাবি করেছেন, পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছিল ৫৬৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। যেহেতু কুরআন নাজিল হয়েছিল ৬০৯ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত, তাই ধারণা করা হয়, এটি রাসূল (সঃ)-এর জীবিত অবস্থায় কিংবা তার মৃত্যুর কয়েক বছরের মধ্যেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।
পাণ্ডুলিপিটির মাত্র দুইটি পাতার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে ১৮ থেকে ২০ নম্বর সূরার অংশবিশেষ লিপিবদ্ধ আছে। একটি পাতায় আছে সূরা আল-কাহফের (১৮ নম্বর) ১৭-৩১ আয়াত, অন্য পাতায় আছে সূরা মারিয়ামের (১৯ নম্বর) ৯১-৯৮ আয়াত এবং সূরা তাহার (২০ নম্বর) ১-৪০ আয়াত। ধারণা করা হয় পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছিল গরুর বাছুর, ছাগল কিংবা ভেড়ার চামড়া থেকে প্রস্তুতকৃত কাগজের উপর। পাণ্ডুলিপিটিতে হিজাজি লিপি অনুসরণ করা হয়েছে। এর পৃষ্ঠাগুলো দৈর্ঘ্যে ৩৪.৩ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থে ২৫.৮ সেন্টিমিটার, যা বর্তমানে প্রচলিত A4 সাইজের চেয়ে খানিকটা বড়।
তুবিনজেন পাণ্ডুলিপি
তুবিনজেন ফ্র্যাগমেন্ট নামে পরিচিত পবিত্র কুরআনের এই কপিটি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে জার্মানির তুবিনজেন ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় দামেস্কে নিযুক্ত প্রুশিয়ার কনসাল জোহান গটফ্রাইড ওয়েট্জস্টাইন এটি সংগ্রহ করেন, যা পরবর্তীতে অন্যান্য আরবি পাণ্ডুলিপির সাথে জার্মানিতে গিয়ে পৌঁছে। ওয়েট্জস্টাইনের ধারণা ছিল, এটি তার সংগৃহীত অন্যান্য পাণ্ডুলিপির মতোই কুফি লিপিতে লেখা। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এটি আসলে হিজাজি লিপিতে লেখা।

২০১৪ সালের নভেম্বরে তুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, তারা পাণ্ডুলিপির তিনটি পাতা নিয়ে গবেষণা করে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি হিজরি প্রথম শতকে, রাসূল মুহাম্মদ (সঃ)-এর ইন্তেকালের ২০ থেকে ৪০ বছর সময়ের মধ্যেই লেখা হয়েছিল। কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে তুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় ৯৫.৪ শতাংশ নিশ্চতয়তা দিয়ে দাবি করে, এটি লেখা হয়েছিল ৬৪৯ থেকে ৬৭৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, অর্থাৎ হযরত উসমান (রাঃ) কিংবা হযরত আলী (রাঃ) এর খিলাফতকালে।
তুবিনজেন ফ্র্যাগমেন্টে ১৭ নম্বর সূরার (আল-ইসরা) ৩৬ নম্বর আয়াত থেকে ৩৬ নম্বর সূরার (ইয়াসিন) ৫৭ নম্বর আয়াত পর্যন্ত লিপিবদ্ধ আছে, যা সম্পূর্ণ কুরআনের প্রায় ২৬.২ শতাংশ। পশুর চামড়া থেকে প্রস্তুতকৃত পৃষ্ঠাগুলোর প্রতিটির আকার দৈর্ঘ্যে ১৯.৫ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থে ১৫.৩ সেন্টিমিটার, যা আধুনিক হিসবে A5 সাইজের কাছাকাছি। এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় গড়ে ১৮ থেকে ২১টি করে লাইন আছে। আগ্রহীরা এর প্রতিটি পৃষ্ঠা অনলাইনে এখান থেকে দেখতে পারবেন।
সানা পাণ্ডুলিপি
১৯৭২ সালে ইয়েমেনের গ্রেট মস্ক অফ সানা’র একটি দেয়াল ধ্বসে পড়লে সেটি সংস্কার করার সময় মাটির নিচে গোপন একটি কুঠুরিতে থাকা প্রচুর প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয়। ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তীতে এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে ৮১টি পাতাকে কুরআনের পাণ্ডুলিপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

কুরআনের অন্য সব প্রাচীন পাণ্ডুলিপির তুলনায় সানা পাণ্ডুলিপিটি একেবারেই ভিন্ন। কারণ চামড়া থেকে তৈরি পার্চমেন্টের উপর এখানে একইসাথে দুইটি লেয়ারে ভিন্ন দুইটি কুরআনের পাণ্ডুলিপির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ একই কাগজের উপর প্রথমে একবার কুরআন লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো কারণে সেই কালি মুছে ফেলা হয় এবং তার উপর আবার নতুন করে কুরআন লিপিবদ্ধ করা হয়। পুরাতন লিপির কালিতে লৌহচূর্ণের উপস্থিতি থাকায়, সময়ের সাথে সাথে তা ছায়ার মতো করে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
রেডিওকার্বন ডেটিং থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকরা দাবি করেছেন, ৬৮ শতাংশ সম্ভাবনা আছে, পাণ্ডুলিপিটি রচনা করা হয়েছিল ৬১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। আর ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনা আছে, এটি রচিত হয়েছিল ৫৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৬৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। অর্থাৎ পাণ্ডুলিপির প্রাচীন লিপিটি মোহাম্মদ (সঃ)-এর জীবিতকালে কিংবা তার মৃত্যুর প্রথম কয়েক দশকের মধ্যেই লেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

পাণ্ডুলিপির পুরাতন এবং নতুন দুইটি অংশই হিজাজি লিপিতে রচিত। কিন্তু নতুন অংশটি প্রায় হুবহু উসমানীয় কুরআনের সাথে মিলে গেলেও পুরাতন অংশটি বর্তমান কুরআনের চেয়ে কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন। কিছু কিছু আয়াতের ক্রম সেখানে এলোমেলো, কিছু কিছু শব্দ সেখানে অনুপস্থিত, এমনকি অন্তত একটি জায়গায় পুরো একটি আয়াতই অনুপস্থিত। ধারণা করা হয়, এটি ছিল হযরত উসমান (রাঃ) কর্তৃক কুরআনের নির্ভুল সংস্করণ সংকলন করার আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে লিখিত ত্রুটিপূর্ণ একটি কপি, যা পরবর্তীতে সংগত কারণেই মুছে ফেলা হয় এবং এর উপর নতুন করে সংশোধিত লিপি লেখা হয়।
সানা কুরআনটি বর্তমানে ইয়েমেনে সংরক্ষিত আছে। ইয়েমেনের দার আল-মাখতুতাত কুরআনটির হাই রেজোল্যুশন কপি ইন্টারনেটে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কুরআনটির নতুন লিপি ডাউনলোড করা যাবে এই লিংক থেকে, আর পুরাতন লিপি ডাউনলোড করা যাবে এই লিংক থেকে। এছাড়া পুরাতন লিপির সাথে বর্তমানের অবিকৃত কুরআনের পার্থক্যের একটি তালিকা পাওয়া যাবে এই লিংকে। সানা পাণ্ডুলিপির আকার সমগ্র কুরআনের প্রায় ৪১ শতাংশ।
তোপকাপি পাণ্ডুলিপি
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তোপকাপি প্যালেস মিউজিয়ামে সংরক্ষিত কুরআনের এই পাণ্ডুলিপিটি তোপকাপি পাণ্ডুলিপি নামে পরিচিত। মিসরের গভর্নর মেহমেত আলি পাশা ১৮১১ সালে পাণ্ডুলিপিটি অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদকে উপহার হিসেবে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে এটি তোপকাপি প্রাসাদে স্থান পায়।

পূর্বে অনেকে এটাকে হযরত উসমান (রাঃ)-এর কুরআন বলে ধারণা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, কুরআনটি লেখা হয়েছিল হিজরি প্রথম শতকের শেষভাগে বা দ্বিতীয় শতকের প্রথম ভাগে, তথা খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতকের প্রথম ভাগে। এছাড়া কুরআনটির লিপির ধরন এবং এতে ব্যবহৃত নকশাগুলোও নির্দেশ করে, এটি হযরত উসমান (রাঃ)-র ইন্তেকালের অনেক পরে লেখা হয়েছিল।
তোপকাপি পাণ্ডুলিপির বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি কুরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোর একমাত্র প্রায় অখণ্ড কপি। কুফি লিপিতে লেখা এই পাণ্ডুলিপিতে মাত্র দুটি পাতা (২৩টি আয়াত) ছাড়া সমগ্র কুরআন একসাথে আছে। গরুর বাছুরের চামড়া থেকে প্রস্তুতকৃত পাণ্ডুলিপিটির প্রতিটি পৃষ্ঠার আকার দৈর্ঘ্যে ৪৬ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থে ৪১ সেন্টিমিটার, যা আধুনিক হিসেবে A3 সাইজের চেয়েও বড়।
সমরকন্দ পাণ্ডুলিপি
উজবেকিস্তানের তাসখন্দে সংরক্ষিত এই কুরআনটি দীর্ঘদিন উসমানী কুরআন নামে পরিচিত ছিল। এর পাতায় লেগে থাকা রক্তের দাগকে হযরত উসমান (রাঃ)-র মৃত্যুর সময়ের রক্ত বলে মনে করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে রেডিওকার্বন ডেটিং থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকরা দাবি করেন, ৬৮ শতাংশ সম্ভাবনা আছে, এটি লেখা হয়েছিল ৬৪০ থেকে ৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। এছাড়াও কুফি লিপিতে লেখা এর বিশালাকৃতির হরফগুলোর স্টাইল এবং বিভিন্ন নকশার সাথে উসমানীয় সময়ের চেয়ে বরং পরবর্তী উমাইয়া আমলেরই বেশি মিল পাওয়া যায়।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কুরআনের এই পাণ্ডুলিপিটি কুফায় সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে তৈমুর লং এটি লুট করে সমরকন্দে নিয়ে যায়। চার শতক ধরে সমরকন্দের খোজা আহরার মসজিদে অবস্থান করার পর ১৮৬৯ সালে রাশিয়ান জেনারেল আব্রামভ এটি কিনে নিয়ে সেইন্ট পিটার্সবার্গের ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরিতে জমা দেন। অক্টোবর বিপ্লবের পর লেনিন পাণ্ডুলিপিটিকে বাশকরতোস্তানের মুসলমানদেরকে উপহার দেন। পরে তাসখন্দের জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯২৪ সালে এটিকে সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সমরকন্দ পাণ্ডুলিপির পাতাগুলো বিশালাকৃতির। দৈর্ঘ্য ৬৮ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ৫৩ সেন্টিমিটার। একেকটি পৃষ্ঠা একেকটি সম্পূর্ণ চামড়া থেকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। পৃষ্ঠাগুলো অত্যন্ত মোটা এবং শক্ত। ধারণা করা হয়, মূল পাণ্ডুলিপিতে ৯৫০টি পাতা ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৩৫৩টি পাতা অবশিষ্ট আছে, যার অধিকাংশই অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং জরাজীর্ণ। বর্তমানে এটি তাই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা আছে।
প্যারিসিনো-পেট্রোপোলিটানাস পাণ্ডুলিপি
প্যারিসিনো-পেট্রোপলিটানাস কোডেক্স নামে পরিচিত কুরআনের এই পাণ্ডুলিপিটি রাখা ছিল মিসরের ফুসতাতের আম্র ইবন আল-আস মসজিদে। নেপোলিয়ানের মিসর অভিযানের সময় এক ফরাসি গবেষক প্রথমে এর কয়েকটি পাতা ফ্রান্সে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এর আরো কিছু পাতা আবিষ্কৃত হয় এবং সেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাইব্রেরি এবং জাদুঘরে স্থান পায়।

কুরআনের এই পাণ্ডুলিপিটি সপ্তদশ শতকের শেষভাগে, কিংবা অষ্টাদশ শতকের প্রথমভাবে সিরিয়াতে লেখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে এর ৭০টি পাতা প্যারিসে, ৪৬টি পাতা রাশিয়াতে, একটি পাতা ভ্যাটিক্যানে, এবং আরেকটি পাতা লন্ডনে সংরক্ষিত আছে। সব মিলিয়ে পাণ্ডুলিপিটিতে কুরআনের প্রায় ৪৫% আয়াত লিপিবদ্ধ আছে।
হিজাজি লিপিতে লেখা পাণ্ডুলিপিটিতে মোট পাঁচ ধরনের হাতের লেখা পাওয়া যায়। সম্ভবত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য একইসাথে পাঁচজন লেখক এটি লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলেন।