Welcome to Roar Media's archive of content published from 2014 to 2023. As of 2024, Roar Media has ceased editorial operations and will no longer publish new content on this website.
The company has transitioned to a content production studio, offering creative solutions for brands and agencies.
To learn more about this transition, read our latest announcement here. To visit the new Roar Media website, click here.

কোলা ওয়ার্স: কোক আর পেপসির মধ্যে চলা নির্বাক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ, তেষ্টায় বুকের ছাতি ফেটে যাবার উপক্রম। এমন সময় ঠাণ্ডা কোমল পানীয়ের বোতল মুখে লাগিয়ে ঢুক ঢুক করে গিলে নিলেন অনেকটা তরল। নিমিষেই জুড়িয়ে এলো প্রাণ। এরকম দৃশ্য গরমকালে অনেক দেখা যায়। কাঠফাটা রোদে তৃষ্ণার্ত গলাকে তৃপ্তি দিতে কার্বোনেটেড সফট ড্রিংকস বা কোমল পানীয়ের জুড়ি মেলা ভার। সফট ড্রিংকসের নাম শুনলেই কোকা-কোলা আর পেপসির নামটা সবার আগেই মনে চলে আসে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ, ভারত-পাকিস্তানের মতো কোকা-কোলা আর পেপসির মধ্যেও দ্বন্দ্বযুদ্ধ বিদ্যমান।

কোকা-কোলা এবং পেপসির মধ্যে মার্কেট শেয়ার নিয়ে কর্তৃত্ব বিস্তারের যে প্রতিদ্বন্দ্বী মনোভাব চলে আসছে, সেটি সামগ্রিকভাবে ‘কোলা ওয়ার্স’ নামে পরিচিত। একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা বাজারে নিজেদের প্রতিযোগিতার দৌরাত্ম্য টিকিয়ে রেখেছে, চলে এসেছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাক যুদ্ধ।

যুগ যুগ ধরে চলে এসেছে পেপসি ও কোকা-কোলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা; Image Source: Mother Jones

একটুখানি ইতিহাস

বিশ্ববিখ্যাত কোমল পানীয় কোকা-কোলার আদি রেসিপি উঠে এসেছিল আমেরিকান ফার্মাসিস্ট জন স্টিথ পেমবারটনের হাত ধরে। ১৮৬৫ সালের এপ্রিলে সংঘটিত ব্যাটেল অভ কলম্বাস-এ গুরুতর আহত হন তিনি। ব্যথা উপশমের জন্য নিয়মিত মরফিন গ্রহণ করতে করতে একসময় এর প্রতি প্রচণ্ড আসক্ত হয়ে পড়েন। মরফিনের এই অভিনিবেশ থেকে মুক্ত হবার জন্য এর বিকল্প এক ঔষধ বানানোর কথা চিন্তা করেন তিনি, যেটাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকবে না। বহু কাঠখড় পোড়ানোর পর কোকা পাতার নির্যাস এবং ক্যাফেইন সমৃদ্ধ কোলা নাটের সংমিশ্রণে এক নতুন সিরাপের ফর্মুলা বের করেন পেমবারটন।

জন স্টিথ পেমবারটন; Image Source: Wikimedia commons

পেটেন্ট ভুক্ত ঔষধ হিসেবে সিরাপটিকে তিনি Excellent নামে বাজারে বিক্রি করতে থাকেন। ১৮৮৬ সালের ৮ মে, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরে প্রথম বিক্রি হয় এই সিরাপ। প্রতি গ্লাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫ সেন্ট। পেমবারটনের দাবি ছিল, মরফিন আসক্তি, বদহজম, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, মাথা ব্যথাসহ অনেক রোগের প্রতিকার হিসেবে কাজ করে ‘এক্সিলেন্ট’। মার্কেটে আসার প্রথম বছরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এক্সিলেন্ট দৈনিক গড়ে নয় গ্লাস করে পানীয় বিক্রি করেছে। উল্লেখ্য, প্রথম দিকে কোকা-কোলা বিক্রি হতো গ্লাসে করে, বোতলে নয়

পেমবারটনের বুক কিপার ফ্রাংক রবিনসন এই ফর্মুলাটিকে কোকা-কোলা নাম দিয়ে নোট করে রাখেন। তার সেই খেয়ালিপনা থেকে সৃষ্ট নামই আজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কোমল পানীয়র দুনিয়া। ১৮৯১ সালে আটলান্টার ব্যবসায়ী গ্রিগস্ চ্যান্ডলার নগদ ২৩০০ মার্কিন ডলার এবং কিছু সম্পত্তি বিনিময়ের মাধ্যমে এর সম্পূর্ণ মালিকানা ক্রয় করে নেন। 

কোকা-কোলা বোতলের বিবর্তন; Image Source: Branding In Asia

১৯০৩ সালের মধ্যে কোকা-কোলাকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার ভাগীদার করে দেন এই চ্যান্ডলার। ফলশ্রুতিতে পানীয়টি দেশের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যায় কানাডাতেও। ১৯১৯ সালে আর্নেস ওডরফের অধীনে থাকা একদল ব্যবসায়ী চ্যান্ডলার থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয় কোকা-কোলা কোম্পানিকে। এর পরের বছর, কোকো-কোলা নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং‘ তালিকায় ঢুকে পড়ে। আর্নেস ওডরফের নেতৃত্বে আরও জনপ্রিয়তা কুড়িয়ে নিতে সক্ষম হয় কোকা-কোলা। এভাবে সময় গড়িয়ে যেতে থাকে।

গ্রিগস চ্যান্ডলার; Image Source: PNG io

ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় ক্যালেব ব্র্যাডহাম নামক এক ফার্মাসিস্টের গবেষণার ফল হিসেবে বাজারে উঠে আসে আরেকটি সুগার ড্রিংকস। নিজ নাম অনুসরণ করেই তিনি এই ড্রিংকের নামকরণ করেন ব্র্যাড’স ড্রিংক। কোকা-কোলাকে টেক্কা দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৮৯৮ সালের ২৮ আগস্ট তিনি এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন পেপসি-কোলা। অনেকের ধারণা পেপসি শব্দের উৎপত্তি হয়তো পরিপাক এনজাইম পেপসিন থেকে। কিন্তু পেপসি-কোলাতে পেপসিন এনজাইম ব্যবহার করা হয়েছে, এমন কোনো নজির নেই।

এই নিউ বার্নেই ঘটেছিল পেপসির উদ্ভাবন; Image Source: New Bern

সময়ের সাথে সাথে সফলতার ধারা ঊর্ধ্বগামী হতে থাকে পেপসি-কোলার। ১৯০৩ সালে ব্র্যাডহাম সর্বমোট ৭,৯৬৮ গ্যালন সিরাপ বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী বছরে যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৯,৮৪৮ গ্যালনে। বোতলের হিসেবে ৬ আউন্স বোতল। প্রথমদিকে পেপসি-কোলার বেশ কাটতি থাকলেও, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তাদের মুনাফার চাকা থমকে যায়। এর জন্য দায়ী করা হয় তৎকালীন যুদ্ধপরবর্তী অস্থিতিশীল চিনির বাজারকে। অবনতির ধারা অব্যাহত থাকায় একসময় খেই হারিয়ে ফেলে পেপসি-কোলা। ফলস্বরূপ, ১৯২৩ সালে কোম্পানিটিকে দেউলিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন কোম্পানির যাবতীয় স্বত্ব মাত্র ৩০,০০০ ডলারের বিপরীতে ক্র্যাভেন হোল্ডিং কর্পোরেশনের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়।

১৯০৭ পেপসি-কোলার একটি বিজ্ঞাপন; Image Source: First Version

এর পরের কয়েক দশক পেপসির উত্থান-পতনের চক্র ক্রমশ বৃত্তাকারে ঘুরপাক খেতে থাকে। ১৯৬৫ সালে Pepsi-Cola Company এবং Frito-Lay Inc. একসাথে মিলিত হয়ে প্রতিষ্ঠা করে Pepsico Inc.

পেপসিকো; Image Source: Marlinco

Pepsico Inc. যেন পেপসি-কোলার মুমূর্ষু অবস্থা দূরীভূত করে নিঃসাড় জীবনে সঞ্চার করেছিল নতুন প্রাণ। এরপর পেপসিকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তারা ব্যবসা করে গেছে দুর্বার গতিতে। বিশ্বের ২৪ টি ব্র্যান্ড বর্তমানে পেপসিকোর অধীনে আছে, যাদের মধ্যে Mountain Dew, Lay’s potato chips, 7up, Lipton Tea, Mirinda, Aquafina bottle water ইত্যাদি। 

বিজ্ঞাপন ও প্রচার-প্রচারণা

বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য উভয় কোম্পানিই বিজ্ঞাপনে ভিন্ন ভিন্ন ধারা অনুসরণ করে এসেছে। তাদের মার্কেটিং ফিলসফি ছিল আলাদা। কোকা-কোলা শুরু থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব, আবেগ-অনুভূতি, হাসি-খুশির মুহূর্তগুলো বেশি প্রাধান্য দিয়ে গেছে। পেপসি সে পথে না হেঁটে, তাদের ড্রিংককে ‘রিফ্রেশমেন্ট ড্রিংক’ হিসেবে তরুণ সমাজকে নিশানা করে করে তাদের প্রচারণা চালিয়ে নিয়েছে।

১৯৭৫ সালে এক ধুরন্ধর কৌশলের আশ্রয়ে ‘পেপসি চ্যালেঞ্জ‘ নামে একটি ক্যাম্পেইন চালু করে পেপসিকো। সেখানে জনগণের জন্য ‘সিঙ্গেল ব্লাইন্ড টেস্ট’ পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। ক্যাম্পেইনে পেপসির লোকেরা মানুষকে ডেকে এনে দুটো গ্লাসে কোমল পানীয় ভর্তি করে পান করতে দিতো। একটিতে থাকত পেপসি, অপরটিতে থাকতো কোকা-কোলা। এরপর জিজ্ঞেস করা হতো, কোনটি বেশি ভালো লেগেছে? অধিকাংশই জানাত, পেপসির স্বাদ তাদের বেশি পছন্দ হয়েছে। এটিই মূলত কোকা-কোলা আর পেপসি কোলার মধ্যকার ‘কোলা-ওয়ার’ এর সূত্রপাত ঘটায়।

১৯৭৫ সালে পেপসিকোর ‘সিঙ্গেল ব্লাইন্ড টেস্ট’; Image Source: Jameson Flink

সে বছরের শেষ দিকে পেপসিকো তৎকালীন জনপ্রিয় পপ-স্টার মাইকেল জ্যাকসনকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত করে। বানিয়ে ফেলা হয় ‘নিউ জেনারেশন’ নামে একটি টিভি অ্যাড, যেখানে মাইকেল জ্যাকসনকে তার বিখ্যাত মুনওয়াক করতে দেখা যায়। গণমাধ্যমে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে বিজ্ঞাপনটি, তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও বাড়িয়ে দেয় পেপসির আবেদন ও গ্রহণযোগ্যতা। এই সাফল্যের ধারা অনুসরণ করেই মাইকেল জ্যাকসনকে দিয়ে কনভেনশন (১৯৮৪), চেজ (১৯৮৮), ড্রিমস (১৯৯১) ইত্যাদি টিভি অ্যাড প্রচার করা হয়।

পেপসির টিভি কমার্শিয়ালে মাইকেল জ্যাকসন; Image Source: Rock-Cafe

পেপসিকো মাইকেল জ্যাকসন ছাড়াও ডেভিড বোয়ি, টিনা টার্নার, ম্যাডোনা, লুডাকরিসের মতো জনপ্রিয় তারকা দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে গেছে। ১৯৮৫ সালে কোকা-কোলার পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ নতুন এক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সে বছর এপ্রিল মাসে তারা বাজার থেকে পুরনো কোকের ফর্মুলা পুরোপুরি উঠিয়ে নিয়ে, নতুন ফর্মুলার কোক লঞ্চ করে। এর নাম রাখা হয় New Coke।

নিউ কোক; Image Source: Innis Maggiore

প্রথমদিকে নতুন ফর্মুলার কোক বেশ সাড়া ফেললেও, কিছুদিন পরেই নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ হওয়া শুরু করে। এই নতুন এক্সপেরিমেন্টাল প্রোডাক্ট কোলা-ওয়ারের ইতিহাসে এক ব্যর্থতা হিসেবে পর্যবসিত হয়। সেজন্য নিউ কোককে বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় কোকা-কোলা। ভোক্তা মহলে কোকা-কোলার ভাইভকে পুনরায় চাঙা করে তুলতে তিন মাস পরই Coca-Cola Classic নামের মোড়কে পুরনো কোক বাজারে ছাড়া হয়। কোমল পানীয়র ভক্তরা কোকা-কোলা ক্লাসিককে সাদরে বরণ করে নেয়।

কোকা-কোলা ক্লাসিক; Image Source: Alibaba

কোকা-কোলা ক্লাসিকের জোয়ারের তোপে পেপসি তখন খানিকটা পিছিয়ে পড়েছে। তাই তারা কোকা-কোলাকে হেয় করার উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন টিভি কমার্শিয়াল বানাতে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় Vending Machine, Summer time is Pepsi time এর কথা।

২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Vending Machine কমার্শিয়ালে দেখা যায় একটি ছোট ছেলে ভেন্ডিং মেশিনের পেপসির নাগাল পাচ্ছে না। তাই, সে পয়সা ঢুকিয়ে প্রথমে দুটি কোকা-কোলা বের করে নিলো। তারপর সেগুলোর উপর দাঁড়িয়ে পেপসিকে হাতের নাগালে পেলো। অপ্রাপ্তবয়স্ক এক ছেলেকে সেই কমার্শিয়ালে ব্যবহারের জন্য কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় পেপসিকে। এছাড়াও অনেক দেশে সেই টিভি অ্যাডটি ব্যান করে দেয়া হয়।

বারবার হেনস্তার পরেও পেপসিকে সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি কোকা-কোলা। তারা তাদের ফ্রেন্ডস, ফ্যামিলি, শেয়ারিংয়ের নীতির স্রোত ধরেই বৈঠা বেয়ে গেছে।

২০০৬ সালে এক টিভি কমার্শিয়াল বের করে কোকা-কোলা। যার থিম নেয়া হয় তৎকালীন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা ভিডিও গেমস ‘গ্র্যান্ড থেফ্ট অটো’ থেকে। গেমে যেমন ভায়োলেন্সকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বেশি, তেমনি সেই টিভি কমার্শিয়ালে সকল ভায়োলেন্স একপাশে রেখে গুরুত্ব পেয়েছে কোকা-কোলার চিরাচরিত ফ্রেন্ডস, ফ্যামিলি এবং শেয়ারিং এবং হ্যাপিনেসের আইডিয়াগুলো।

‘গ্র্যান্ড থেফ্ট অটো’ গেমের আদলে নির্মিত কোকা-কোলার টিভি কমার্শিয়াল; Image Source: Youtube

২০১৩ সালের হ্যালোউইনের আরেকটি ছোট ঘটনা। পেপসির বেলজিয়ান অ্যাড অ্যাজেন্সি পেপসির অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এক ছবি আপলোড দিয়ে বসে। ওই ছবিতে পেপসির একটি ক্যানকে লাল রঙয়ের কাপড় পরিয়ে দেয়া হয়েছিল, এবং ছবির উপরিভাগে লিখা ছিল, “We wish you a scary Halloween!” ওখানে কোকা-কোলাকে খোঁচা দেয়ার কাহিনী সুস্পষ্ট না হলেও, ব্যাপারটা বুঝতে তেমন মেধা খরচ করতে হয় না। কারণ, লাইনটা দ্বারা বুঝানো হয়েছে, এই হ্যালোউইনে কোকা-কোলা বেছে নেয়াটা হবে ভয়ানক একটা সিদ্ধান্ত। তাছাড়া এখানে কোকা-কোলার নাম সরাসরি ব্যবহার না করে, একটু কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এখানে লাল কাপড়ের উপর Coca-Cola না লিখে লিখা হয়েছে Cola Coca. কোকা-কোলা এ বিষয়েও কোনো কর্ণপাত করেনি। কিন্তু চটে গিয়েছিল একজন কোকা-কোলা ভক্ত। সে দ্রুত তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বসে 9Gag নামক এক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। সেখানে সে উপরের লিখাটি এডিট করে লিখে দেয়, “Everybody wants to be hero!”

Image Source: Happy Hey

বিজয়ের মালা পড়েছে কে?

কোলার মধ্যকার এই যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে, তা জানার আগে কিছু জিনিস বিশ্লেষণ করে নেয়া যাক।

মার্কেট শেয়ার

Statista-র ডাটা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে পেপসিকো সফট ড্রিংকস মার্কেটের ২৪.১% শেয়ার দখল করে রাখলেও, কোকা-কোলা বাগিয়ে নিয়েছিল ৪৩.৭% শেয়ার। snopes.com এর এক আর্টিকেল থেকে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোকা-কোলা কোমল পানীয়র মার্কেট শেয়ারের ৬০% এর বেশি দখল করে রাখলেও ১৯৮৩ সালে তা নেমে যায় ২৪ শতাংশে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সূত্র মতে, ১৯৮৫ সালে কোকা-কোলার মার্কেট শেয়ার ছিল ৩২.৩% এবং পেপসিকো ২৪.৮% মার্কেট শেয়ার ধরে রেখে তাদের প্রতিযোগিতার মনোভাব বজায় রাখছিল।

রাজস্ব

Statista-র তথ্যমতে, ২০১০ সালে কোকা-কোলার রাজস্ব ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি থাকলেও, ২০২০ এ এসে তা ঠেকেছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে কোকা-কোলা সবচেয়ে লাভের মুখ দেখেছিল ২০১২ সালে, যখন তাদের রাজস্ব ছিল ৪৮.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অপরদিকে ২০১০ সালে পেপসিকোর রাজস্ব ৫৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঘরে থাকলেও, ২০২০ সালে তা গিয়ে পৌঁছায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ২০১৯ সালে তাদের রাজস্ব ছিল ৬৭.১৬ বিলিয়ন ডলার যা ২০১৮ সালের মোট রাজস্বের চেয়ে ৩.৮৭% বেশি। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৪.৭৮% এ দাঁড়ায়। মোট এই বছর মোট রাজস্ব ছিল ৭০.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের রাজস্বের পরিমাণ ১৪.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ব্র্যান্ডিং ও কমার্শিয়াল

কোকা-কোলা তাদের প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে ২০১৯ সালেই ঢেলেছে ৪.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৃহত্তর এই কোমল পানীয়র কোম্পানিটি প্রচারণার উদ্দেশ্যে গত পাঁচ বছরে মোট ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পকেট থেকে ঝরিয়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে তারা বিজ্ঞাপনের নিচে খরচ করেছে ৩.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে ২০১৮ সালে কোম্পানিটির বিজ্ঞাপন খরচ ছিল ৪.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ আগের বছর থেকে বেড়েছে ৩.৬%। ২০১৬ সালেও তারা গ্লোবাল অ্যাডাভারটাইজমেন্টে ব্যয় করেছিল মোট ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০১৩ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত ব্র্যান্ডিং আর কমার্শিয়ালের পেছনে পেপসিকো ব্যয় করেছে মোট ২০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গড় হিসেবে প্রতি বছর প্রচারণার পেছনে ঢালতে হয়েছে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল ২০১৪ সালে, ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯ এবং ২০২০, উভয় বছরে তারা খরচ করেছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

নেট অপারেটিং রেভেনিউ

২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোকা-কোলার নেট অপারেটিং রেভেনিউ বেশ কয়েক বার উঠানামা করেছে। যেমন, ২০১০ সালে তাদের নেট রেভেনিউ ৩৫.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থাকলেও ২০২০ সালে তা নেমে এসেছে ৩৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে গ্রাফ উন্নতির মুখ দেখেছে ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে। এই বছরগুলোতে তাদের নেট রেভেনিউ ছিল ৪০ বিলিয়নের ডলারের উপরে।

অপরদিকে এই স্থানে কোকা-কোলার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল পেপসিকো। ২০১০ সালে তাদের নেট অপারেটিং রেভেনিউ ৫৭.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থাকলেও, ২০২০ এ লাফ দিয়ে উঠে যায় ৭০.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। মাঝের বছরগুলোতে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঘরে থেকেই তারা উঠানামা করেছে।

মূলধন

Companies Market Cap এর দেয়া তথ্য মতে, ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত কোকা-কোলা মোট মূলধন ২৩২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর পেপসিকোর ছিল ২০৪.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে Y Charts এর সর্বশেষ তথ্য মতে, ১ জুলাই ২০২১ সাল পর্যন্ত কোকা-কোলার মূলধন ২৩২.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং পেপসিকোর ২০৫.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

Investopedia এর রিপোর্ট অনুসারে ২০২০ সালে কোকা-কোলার মূলধন ছিল ১৮৫.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং পেপসিকো’র মূলধন ছিল ১৮৮.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, এটা তাদের অধীনে সকল ব্র্যান্ডের হিসেবে, শুধু কোমল পানীয় নয়।

কোমল পানীয়র বাজারে প্রতিযোগিতার বাজিতে কোকা-কোলা এবং পেপসি, দুইজনেই প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করে রেখেছিল। ২০১০ সালে পেপসিকে টপকে কোকা-কোলার Diet Coke শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। বিখ্যাত দৈনিক পত্রিকা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ নিয়ে একটা আর্টিকেলও ছেপেছিল। আর্টিকেলে শিরোনাম ছিল, Diet Coke Wins Battle in Cola Wars।

প্রতিষ্ঠান দুটির রাজস্ব তুলনা করলে দেখা যায়, পেপসিকো অনায়াসেই কোকা-কোলাকে হারিয়ে সফট ড্রিংকসে সিংহাসন দখল করে নিয়েছে। কিন্তু ব্র্যান্ড ভ্যালুর হিসেবে ঘটনার ভোল সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। Statista-র তথ্য মতে ২০২০ সালে কোকা-কোলার মোট ব্র্যান্ড ভ্যালু ছিল ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অন্যদিকে পেপসিকোর ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তাই, ব্র্যান্ড ভ্যালুর বিচারে কোলা-ওয়ারের এই চলমান যুদ্ধে বিজয়ী শিরোভূষণ পরিধান করে নিয়েছে জনপ্রিয় পানীয় কোকা-কোলা।

Featured Image: Wallpaper Cave

Necessary references are hyperlinked inside the article. 

Related Articles