Welcome to Roar Media's archive of content published from 2014 to 2023. As of 2024, Roar Media has ceased editorial operations and will no longer publish new content on this website.
The business has since evolved into Obsidian, an integrated creative studio focused on delivering insight driven campaigns, brand work, and creative production for brands and agencies.
To learn more about this transition, read our latest announcement here. To visit the new Obsidian website, click here.

ব্যাটিং অর্ডারের নমনীয়তা এবং সাকিব আল হাসান

“এটা মনে হয় বাচ্চা মানুষের মতো, আমার ব্যাট আমিই খেলবো! আর কেউ খেলতে পারবে না। দলের স্বার্থে যেকোন জায়গায় খেলতে রাজি থাকা উচিত। আপনি ১০০-২০০ করলেন, দল হারলো, এই ব্যক্তিগত অর্জন দিয়ে কী হবে?”

-সাকিব আল হাসান, বিশ্বকাপের আগে টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।

অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল বিশ্বকাপের আগে জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপগামী দল ঘোষণার আগে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (বিভিন্ন সূত্রমতে, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান স্বয়ং) তাকে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নিরুৎসাহিত করেন, পরবর্তীতে ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে নামার প্রস্তাব দেন। পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে ওপেনিং করা তামিম ইকবাল রাজি হননি এই প্রস্তাবে। এরপরই সাকিব আল হাসান তার সাক্ষাৎকারে দলের প্রয়োজনে যেকোন জায়গায় ব্যাট করার প্রসঙ্গে কথা বলেন।

সাকিব আল হাসান; Image Source: ICC

দলের প্রয়োজনে যে কাউকে যেকোনো জায়গায় ব্যাট করানোর এই ব্যাপারটাকে সাধারণভাবে ব্যাটিং অর্ডারের নমনীয়তা বলা যায়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাটসম্যানকে যে ব্যাটিং অর্ডারের নির্দিষ্ট জায়গাতেই নামতে হবে, এমনটা নয়। একেবারেই সাম্প্রতিক একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। বেন স্টোকসের অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ডের চার নম্বর জায়গাটা পেয়েছিলেন হ্যারি ব্রুক। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ওপেনার ডেভিড মালান আর জনি বেয়ারস্টোর দুর্দান্ত শুরুর পরে তিনে নামা জো রুটও যখন বড় ইনিংসের পথে, আটত্রিশতম ওভারে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটল দলীয় ২৬৬ রানে, সেই সময়ে হ্যারি ব্রুক নন, বরং ক্রিজে আসলেন জস বাটলার। উদ্দেশ্যটা খুবই পরিষ্কার — যেহেতু মারকাটারি ব্যাটিংয়ে ব্রুকের (ওয়ানডে স্ট্রাইক রেট ৯০.৩২) তুলনায় বাটলারের (ওয়ানডে স্ট্রাইক রেট ১১৮.০৪) পারদর্শিতা বেশি, সময় এবং সুযোগটা তিনিই কাজে লাগাতে চাইলেন।

ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে পারেন জস বাটলার; Image Source: Getty Images

চাইলে এমন উদাহরণ আরো অনেক দেওয়া যায়। কখনো রানের গতি বাড়ানোর জন্য, কখনো উইকেটে টিকে থাকার জন্য, আবার কখনো ডানহাতি-বাঁহাতি বোলিংয়ের বিরুদ্ধে সুবিধা পাওয়ার জন্য দলগুলো এমনটা হরহামেশাই করে থাকে। যেমন এশিয়া কাপের সুপার ফোরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের হয়ে নম্বর ফোরে ব্যাট করেছিলেন লোকেশ রাহুল, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন ইশান কিষাণ।

‘ধান ভানতে শিবের গীত‘ গাওয়া হয়ে যাচ্ছে হয়তো, মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। সাকিব আল হাসান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ দলেও ব্যাটিং অর্ডারের এই অদলবদলটা খুব ভালোভাবে চোখে পড়ছে। এই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যানই দেখা যাক প্রথমে, একই সাথে তুলনা করা যাক সাবেক নিয়মিত অধিনায়ক তামিম ইকবালের সাথে। অনিয়মিত অধিনায়ক বলে লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তকে আপাতত বিবেচনার বাইরে রাখা হলো।

তামিম ইকবাল; Image Source: Getty Images

এ বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ খেলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ঐ সিরিজে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন তামিম ইকবাল, এবং সিরিজের তিনটা ম্যাচেই বাংলাদেশ দলের প্রথম আটজন ব্যাটসম্যানের ক্রম ছিল হুবহু একই। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবাল আর লিটন কুমার দাস, এরপর যথাক্রমে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।

ইংল্যান্ড সিরিজের পরে বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ঐ সিরিজের প্রথম দুটো ম্যাচেও ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম সাতজনের ক্রম ছিল একই। ওপেনিংয়ে তামিম-লিটন, এরপর শান্ত, সাকিব, তাওহীদ হৃদয়, মুশফিক এবং ইয়াসির আলী। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দশ উইকেটে জয় লাভ করে বিধায় ঐ ম্যাচকে ধর্তব্যের বাইরে রাখা হলো।

এরপরে বাংলাদেশ যায় ইংল্যান্ডে। চেমসফোর্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। এবং অবশ্যই, প্রথম দুটো ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম সাত ব্যাটসম্যান ছিলেন অপরিবর্তিত। তামিম-লিটন ইনিংসের গোড়াপত্তন করেছিলেন, এরপর যথাক্রমে এসেছিলেন শান্ত, সাকিব, হৃদয়, মুশফিক এবং মিরাজ। আট-নয়ে আসা তাইজুল-শরিফুল স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বা অলরাউন্ডার নন বিধায় তাদের বিবেচনার বাইরে রাখা হলো। তৃতীয় ম্যাচে চোটের জন্য অনুপস্থিত ছিলেন সাকিব আল হাসান, তাই নম্বর ফোরে লিটনকে খেলিয়ে ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী করা হয় রনি তালুকদারকে।

তামিমের অধীনে তামিম-লিটনই নিয়মিত ওপেনিং জুটি; Image Source: Getty Images

আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচের প্রথম ছয়জন ব্যাটসম্যানও ছিলেন বাংলাদেশের নিয়মিত মুখ। তামিম, লিটন, শান্ত, সাকিব, হৃদয়, মুশফিক, এবং সাত-আটে আফিফ-মিরাজ। এরপরই তামিমের সেই ‘অবসর-কাণ্ড’, এবং অধিনায়কত্বের সমাপ্তি। ঐ সিরিজের বাকি দুটো ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন লিটন দাস।

ব্যাটসম্যানওপেনিংতিনচারপাঁচছয়সাতআট
তামিম ইকবাল৯০০০০০০
লিটন দাস৮০১০০০০
নাজমুল হোসেন শান্ত০৯০০০০০
সাকিব আল হাসান০০৫৩০০০
তাওহীদ হৃদয়০০০৬০০০
মুশফিকুর রহিম০০৩০৬০০
মাহমুদউল্লাহ০০০০৩০০
আফিফ হোসেন০০০০০৪০
মেহেদী হাসান মিরাজ০০০০০৩৪
ইয়াসির আলী০০০০০২০
রনি তালুকদার১০০০০০০
২০২৩ সালে তামিমের অধীনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান বনাম তাদের বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করা ইনিংসের সংখ্যা; Source: Author

অর্থাৎ এটা নিশ্চিত, তামিমের অধিনায়কত্বে যেকোনো সিরিজে বাংলাদেশের দলের প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের পজিশন নির্দিষ্ট। খেলার অবস্থা যা-ই হোক, ব্যাটিং অর্ডারের পরিবর্তন ঘটে না। পাশাপাশি সিরিজ শুরুর আগেই ব্যাটসম্যানরা ভালোভাবেই জানেন তাদের ব্যাটিংয়ের পজিশন।

তানজিদ-নাঈম জুটি দেখা গেছে এশিয়া কাপে; Image Source: ACC

এবার আসা যাক সাকিব আল হাসানের প্রসঙ্গে।

এশিয়া কাপ থেকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব পান সাকিব। তামিম-লিটনের অনুপস্থিতিতে তার অধীনে অভিষেক হয় তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নাঈম শেখের সাথে ওপেন করেন তানজিদ। এরপরে ব্যাটিংয়ে আসেন যথাক্রমে শান্ত, সাকিব, হৃদয়, মুশফিক, মিরাজ এবং মাহেদী। তবে ঐ ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতার পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচেই ব্যাটিং অর্ডারে ব্যাপক রদবদল দেখা যায়। ওপেন করেন নাঈম-মিরাজ, এরপরে যথাক্রমে হৃদয়, শান্ত, মুশফিক, সাকিব, শামীম এবং আফিফ। পরিবর্তনের এই ধারা অব্যাহত থাকে সুপার ফোরের তিন ম্যাচেও।

ব্যাটসম্যানওপেনিংতিনচারপাঁচছয়সাতআট
নাঈম শেখ৪০০০০০০
লিটন দাস১২০০০০০
তানজিদ হাসান তামিম২০০০০০০
মেহেদী হাসান মিরাজ৩০০১০১০
নাজমুল হোসেন শান্ত০১১০০০০
তাওহীদ হৃদয়০১০২২০০
সাকিব আল হাসান ০০৪০১০০
মুশফিকুর রহিম০০০২২০০
শামীম হোসেন০০০০০৪০
আফিফ হোসেন০০০০০০২
মাহেদী হাসান০০০০০০২
এনামুল হক বিজয়০১০০০০০
এশিয়া কাপে সাকিবের অধীনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান বনাম তাদের বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করা ইনিংসের সংখ্যা; Source: Author

এশিয়া কাপের পরে নিউ জিল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন লিটন, তৃতীয় ম্যাচে শান্ত। অনিয়মিত অধিনায়ক বিবেচনায় তাদেরও হিসেবের বাইরে রাখা হলো। একই কারণে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোকেও রাখা হলো ধর্তব্যের বাইরে।

বিশ্বকাপের ক্ষেত্রেই আসা যাক। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওপেন করেছেন তানজিদ-লিটন, এরপর মিরাজ, শান্ত, সাকিব এবং মুশফিক। অপর দুই ব্যাটসম্যান, তাওহীদ হৃদয় এবং মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে আবারও ব্যাটিং অর্ডারে রদবদল, তানজিদ-লিটনের পর এদিন একে একে এলেন শান্ত, সাকিব, মিরাজ, মুশফিক, হৃদয় এবং মাহেদী। অর্থাৎ, পরিবর্তন চলছেই।

টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত ওপেনার লিটন-রনি; Image Source: Getty Images

কিন্তু এমন পরিবর্তন কি অস্বাভাবিক? সাকিব কি এমনটা আগেও করেননি। এই উত্তর খুঁজতে এই বছরের শুরুর দিকে ফিরে যাওয়া যাক আবারও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তামিমের অধিনায়কত্বের বর্ণনা তো আগেই দেওয়া হয়েছে, এবার আসা যাক টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ঐ সিরিজের তিন ম্যাচেই ওপেন করেছিলেন লিটন-রনি, তিনে শান্ত। চারে প্রথম দুটো ম্যাচ খেলেছেন হৃদয়, শেষ ম্যাচ সাকিব। প্রথম ম্যাচে পাঁচ-ছয়ে ছিলেন সাকিব-আফিফ, দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ থেকে সাতে ছিলেন মিরাজ-সাকিব-আফিফ। আয়ারল্যান্ড আর আফগানিস্তান সিরিজেও চলে এই রদবদল প্রক্রিয়া।

ব্যাটসম্যানওপেনিংতিনচারপাঁচছয়সাতআট
লিটন দাস৮০০০০০০
রনি তালুকদার৭০০০০০০
নাজমুল হোসেন শান্ত০৭০১০০০
তাওহীদ হৃদয়০০৪৩০০০
সাকিব আল হাসান০১৩২২০০
আফিফ হোসেন১০০০১১০
শামীম হোসেন০১০০৩০০
মেহেদী হাসান মিরাজ০০০১০২০
২০২৩ সালে টি২০তে সাকিবের অধীনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান বনাম তাদের বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করা ইনিংসের সংখ্যা; Source: Author

সাকিবের এই ‘নমনীয়’ অধিনায়কত্বের ব্যাপারটা জাতীয় দলেই প্রথম নয়, বিপিএলের গত দুটো মৌসুমেও একই ঘটনা দেখা গেছে। দুটো মৌসুমেই ফরচুন বরিশালের অধিনায়কত্ব করেছেন সাকিব, দুটো মৌসুমেই ব্যাটিং অর্ডারে বারবার পরিবর্তন এনেছেন। ২০২২ বিপিএলেই আসা যাক।

ব্যাটসম্যানওপেনিংতিনচারপাঁচছয়সাতআট
মুনিম শাহরিয়ার৬০০০০০০
ক্রিস গেইল৮০০২০০০
নাজমুল হোসেন শান্ত৩৪০২১০০
সাকিব আল হাসান০৩৬১১০০
তাওহীদ হৃদয়০১৩৩২০১
ডোয়াইন ব্রাভো১০০৪৪০০
নুরুল হাসান০১২০৩১২
জিয়াউর রহমান০১০১০১৩
জেক লিনটট*১০০০০০০
সৈকত আলী৩১০০০০০
ইরফান শুক্কুর০০০১০১২
২০২২ বিপিএলে ফরচুন বরিশাল দলের ব্যাটসম্যান ও তাদের পজিশনভিত্তিক ইনিংস সংখ্যা; Source: Author

*জেক লিনটট একটা ম্যাচে নয় নম্বরে ব্যাট করেছিলেন।

মুনিম-গেইলে স্থিতি পেয়েছিল বরিশালের ওপেনিং; Image Source: Getty Images

মুনিম শাহরিয়ার আর ক্রিস গেইলে ধাতস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত ওপেনিং নিয়েও বেশ কাটাছেঁড়া চলেছে বরিশাল দলে। তবে ‘২৩-এর বিপিএলে ঐ কাটাছেঁড়াটা চলেছে পুরো বিপিএল জুড়েই। শুধু ওপেনিং নয়, পুরো ব্যাটিং অর্ডার নিয়েই।

ব্যাটসম্যানওপেনিংতিনচারপাঁচছয়সাতআট
এনামুল হক বিজয়১১১০০০০০
মেহেদী হাসান মিরাজ৪১১০১০৩
সাকিব আল হাসান০৩৭১০০০
মাহমুদউল্লাহ১২৪১৪০০
ইফতিখার আহমেদ০১০৫৫০০
চতুরঙ্গ ডি সিলভা২২১১০০২
করিম জানাত০০১০৩৪৩
ইব্রাহিম জাদরান১৩২১১০০
সাইফ হাসান৪০০০০০০
ফজলে মাহমুদ২০০০০০০
২০২৩ বিপিএলে ফরচুন বরিশাল দলের ব্যাটসম্যান ও তাদের পজিশনভিত্তিক ইনিংস সংখ্যা; Source: Author

সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার যে, অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরা অবস্থায় সাকিব তার দলের ব্যাটিং অর্ডারে নমনীয়তা পছন্দ করেন। কোন ব্যাটসম্যানকে যে প্রতি ম্যাচে একই পজিশনে খেলাতে হবে, বা অনুসরণ করতে হবে একটি নির্দিষ্ট ব্যাটিং অর্ডারই, এই নীতির পক্ষপাতী সাকিব নন। বরং দলের প্রয়োজন, ম্যাচের অবস্থা, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও ব্যাটসম্যানদের শক্তির জায়গা, সব বিবেচনায় নিয়েই সাকিব ব্যাটিং অর্ডার সাজান এবং সময়ে সময়ে তা পরিবর্তন করেন। মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও অনেক সময়ে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করতে দেখা যেত। ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনালে মিরাজকে ওপেন করিয়েছিলেন তিনি, ঐ টুর্নামেন্টে ইমরুল কায়েস খেলেছিলেন মিডল অর্ডারে। কখনো কখনো মাশরাফি নিজেই মিডল অর্ডারে উঠে আসতেন, অবশ্যই সার্বিক বিবেচনা করে। জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তামিমকে তেমন কিছু করতে খুব কমই দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যাটিং অর্ডার অনুসরণ করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।

Image Source: Getty Images

স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেকের অধিনায়কত্বের ধরণ ভিন্ন। তবে ব্যাটিং অর্ডারে এত বেশি রদবদলটা সাকিব ছাড়া বাংলাদেশের আর কারো অধিনায়কত্বে খুব একটা দেখা যায় না। এই ভিন্নভাবে চিন্তার জন্যই হয়তো সাকিব অন্য সকলের চেয়ে আলাদা!

This article is in Bangla language. It is about a feature of the captaincy of the captain of Bangladesh National Cricket Team, Shakib Al Hasan. This is a statistical feature of the frequent change in the batting order of Bangladesh team. Necessary sources and photos are attached inside the article.

Related Articles