রোমান্টিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন: আধুনিক গণতন্ত্রের চতুর্থ ঢেউ

১৬৪৯ সাল। জানুয়ারির শুরুতেই ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লস দেশদ্রোহী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল বিনা প্ররোচনায় পার্লামেন্ট এবং পার্লামেন্টের সদস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার। এর আগের অর্ধশতাব্দী ধরে, রাষ্ট্রের এস্টাবলিশমেন্টের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব চলেছে রাজা আর পার্লামেন্টের মধ্যে।

ইংল্যান্ডে রাজা আর বিদ্রোহীদের মধ্যে ম্যাগনাকার্টা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই ক্রমাগত কমছিল রাজার ক্ষমতা, শক্তিশালী হচ্ছিল পার্লামেন্ট। রাজা প্রথম চার্লসের চেষ্টা ছিলো ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের এই ক্রমাগত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর, চেষ্টা ছিলো পার্লামেন্টকে অকার্যকর করে রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধির। তার এই ক্রমাগত ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে আসার চেষ্টা অস্থিতিশীল করে তোলে ব্রিটিশ রাজনীতিকে, একসময় রাজতন্ত্রের সমর্থক আর তার বিরোধীরা জড়িয়ে পড়ে সশস্ত্র সংঘাতে, ইংল্যান্ডের শুরু হয় গৃহযুদ্ধ।

এই সংঘাতে রাজার সমর্থকেরা পরাজিত হয়, রাজা বন্দী হন। একগুয়ে রাজা প্রথম চার্লস বন্দি অবস্থাতেও অসম্মতি জানান কোনো সমঝোতায় আসতে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত পার্লামেন্টের সদস্যের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে। রাজা প্রথম চার্লসের এই অনড় অবস্থান কট্টর পার্লামেন্টপন্থীদের সুযোগ করে দেয় রাজার ক্ষমতার উপর আরেকদফা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার। দেশদ্রোহ আর নির্বাচিত পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার বিচার শেষে, ১৬৪৯ সালের ৩০ জানুয়ারি, রাজার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়। পার্লামেন্টের ভূমিকাতে ক্ষমতায় আসেন দ্বিতীয় চার্লস।

রাজা প্রথম চার্লস; Image Source: Britannica

প্রাচীন এথেন্স থেকে আজকের আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার ধাপে ধাপে ছড়িয়ে আছে স্বাধিকার আর ব্যক্তির রাজনৈতিক অধিকারের মূল্যবোধকে ধারণ করার ইতিহাস। আধুনিক যুগে সবচেয়ে বেশি হিসেবে ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে দিয়ে গেছে গণতন্ত্র, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা হিসেবে। আধুনিক গণতন্ত্রের বিবর্তনের ঘটনাগুলোকে তেরোটি পর্বে বিভক্ত করেছেন অধ্যাপক সেভা গুনিস্কায়, ২০১৮ সালে তাঁর প্রকাশিত ‘ডেমোক্রেটিক ওয়েভস ইন হিস্ট্রিকাল পার্সপেকটিভ’ আর্টিকেলে।

রোমান্টিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (১৮৩০-৩১)

আধুনিক গণতন্ত্রের বিবর্তনে আটলান্টিক রেভ্যলুশনে জড়িত ছিল ফ্রান্স, উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিলো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর স্বাধীনতা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহে, ভূমিকা ছিলো তৃতীয় ঢেউয়েও। শাসনব্যবস্থা নিয়ে ফ্রান্সের নাগরিকদের ক্রমাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার প্রবণতা মূল ভূমিকায় নিয়ে এসেছে আধুনিক গণতন্ত্রে বিবর্তনের চতুর্থ ধাপেও, প্রভাবিত করেছে মধ্য আর পশ্চিম ইউরপের দেশগুলোকেও।

আটলান্টিক রেভ্যলুশনের পরে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের পতন হয়, ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রণ চলে আসে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে। কিন্তু ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এই পরিবর্তনের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ে, ক্ষমতা চলে যায় সামরিক বাহিনীর কাছে। আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম সফল সেনাপতি নেপলিয়ান বেনোপার্ট চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, নিজেকে ঘোষণা করেন রাজা হিসেবে।

নেপোলিয়নের পতনের পর সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের কাঠামোতে ফিরে যাওয়া শুরু করে ফ্রান্স, সংবিধানের স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন রাজা অষ্টাদশ লুইস। তার মৃত্যুর পরে রাজা হন রক্ষণশীল ভাবধারায় বেড়ে ওঠা দশম চার্লস, বিশ্বাস করতেন রাজা সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি হওয়ার ধারণায়। ফলে রাজা হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই রাজা দশম লুইস শুরু করেন রাজার অসীম ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। রাজা পার্লামেন্টকে অগ্রাহ্য করে নিজের ইচ্ছামতো প্রধানমন্ত্রী পদে রদলবদল ঘটান, রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্যক্রমে অগ্রাহ্য করতে শুরু করেন মন্ত্রীসভাকে, চেষ্টা করতে থাকেন রাজার ক্ষমতাকে আটলান্টিক বিপ্লবের আগের অবস্থার মতো অসীম করতে।

১৮৩০ সালে রাজা দশম চার্লস ফ্রান্সের প্রতিনিধি সভা ভেঙে দেন, জনসাধারণের ভোটাধিকার সীমিত করেন, অবাধ প্রকাশের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সংবাদপত্রগুলোর উপর আরোপ করেন নিষেধাজ্ঞা, প্রতিনিধি পরিষিদে বাড়ানোর চেষ্টা করেন রাজার মনোনীত সভ্যের সংখ্যা। রাজার এই স্বেচ্ছাচারি আচরণ আরেকদফা সংকটের দিকে ঠেলে দেয় ফ্রান্সকে, ঘটনাপ্রবাহে যেটা রূপ নেয় রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে।

এই সংকটের সমাধান হয় রাজা দশম চার্লসকে অপসারণ করার মাধ্যমে, ক্ষমতায় আসেন নতুন রাজা লুই ফিলিপ, আবার শুরু হয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, স্বীকৃতি পায় জনসাধারণের ভোটের অধিকার। ঘটনাপ্রবাহ বলে, ফ্রান্সের রাজা নিজেদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেননি, শিক্ষা নেননি ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লসের দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির উদাহরণ থেকেও। ইতিহাসে ফ্রান্সের এই আন্দোলন পরিচিত জুলাই বিপ্লব নামে।

জুলাই বিপ্লব; Image Source: The Guardian

ফ্রান্সের এই বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে মধ্য ইউরোপের অন্যান্য দেশে, প্রভাব পড়ে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতেও। ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লবের একমাসের মধ্যেই বেলজিয়ামে আন্দোলন শুরু হয় হয় নেদারল্যান্ডের রাজার শাসনের বিরুদ্ধে, রাজার অসীম ক্ষমতাকে সীমিত করার দাবিতে। নেদারল্যান্ডের রাজা এই আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমনের সিদ্ধান্ত নেন, রাজার অনুগত সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ শুরু হয় পরিবর্তনকামীদের সাথে।

দ্রুতই এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পরে বেলজিয়ামের সবগুলো অঞ্চলে, নেদারল্যান্ডের রাজার অনুগত বাহিনী হারাতে থাকে বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ। রাজার ক্ষমতাকে সীমিত করার আন্দোলন রূপ নেয় স্বাধীনতার দাবিতে, চার্লস রজারের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার বেলজিয়ামের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন অক্টোবর মাসের শুরুতেই। স্বাধীন বেলজিয়াম শাসনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে সাংবিধানিক রাজতন্ত্রকে, বেলজিয়ানদের প্রথম রাজা হিসেবে ক্ষমতায় আসেন প্রথম লিওপল্ড।

বেলজিয়ান বিপ্লব; Image Source: Getty Images

অক্টোবরে বেলজিয়ানদের সফল স্বাধীনতা আন্দোলনের পরে রাশিয়ান জারের বিরুদ্ধে নভেম্বর মাসে আন্দোলন শুরু হয় পোল্যান্ডে। স্বাধিকার আর রাজনৈতিক অধিকারেরে দাবিতে পোলিশ সামরিক বাহিনীর ছাউনিতে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুতই পোল্যান্ডের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, জড়িয়ে পড়ে পোল্যান্ডের সর্বস্তরের জনগণ। জারের নির্দেশে রাশিয়ান সামরিক বাহিনী কঠোরভাবে দমন করে এই বিদ্রোহ। প্রথমদিকে রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের বিদ্রোহী অংশ কিছু সাফল্য পেলেও অস্ত্রশস্ত্রের অপ্রতুলতা আর সমন্বিত কমান্ডের অভাবে দ্রুতই বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণ করতে হয় রাশিয়ানদের কাছে।

ফ্রান্সের জুলাই বিপ্লবের প্রভাব সুইজারল্যান্ডে পড়লেও, দীর্ঘদিনের শাসনকাঠামো নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় কোনো সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েনি কাউন্টিগুলো। বরং বিভিন্ন প্রাদেশিক অংশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একের পর এক কনফারেন্স হয়েছে, রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে লিবারেল আর রক্ষণশীলদের মধ্যে। সুইজারল্যান্ডের ইতিহাসে ১৮৩০-৩১ সালের সময়টিকে মূল্যায়ন করে হয় জাতীয় পুনর্গঠন ও স্বীকৃতির সময় হিসেবে। ১৯টি প্রাদেশিক অংশ একসাথে হয়ে ফেডারেল কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া এই সময়েই শুরু হয়। বিচ্ছিন্ন প্রাদেশিক অংশগুলো একসাথে হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় ইতালিতেও, ফ্রান্সের রাজা লুই ফিলিপের প্রত্যক্ষ সমর্থনে। যদিও, অস্ট্রিয়ার হস্তক্ষেপ এই পর্যায়ে ইতালির সংঘটিত রূপ প্রকাশিত হয়নি।

একই সময়ে, সুইজারল্যান্ডের মতো লিবারেল আর রক্ষণশীলদের সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ব্রাজিলে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর স্বাধীনতার পর্বে স্বাধীনতা অর্জন করে ব্রাজিল, ঘটনাপ্রবাহে স্বাধীন ব্রাজিলের রাজা হিসেবে দায়িত্ব নেন পর্তুগালের রাজপুত্র পেদ্রো। সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে শুরু করেন রাজা পেদ্রো, সংকুচিত করতে থাকেন স্বাধীনতার মাধ্যমে অর্জিত রাজনৈতিক অধিকার। রাজার বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে থাকলে ব্রাজিলিয়ান লিবারেলরা একে সুযোগ হিসেবে নেন, রাজার ক্ষমতাকে সীমিত করার অথবা রাজাকে উৎখাতের।

ব্রাজিলের রাজা পেদ্রো; Image Sourc: Wikimedia Commons

আধুনিক গণতন্ত্রের চতুর্থ ঢেউ

আধুনিক গণতন্ত্রের প্রথম ঢেউ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর স্বাধীনতা আন্দোলনকে, দ্বিতীয় ঢেউ ঘটে লাতিন আমেরিকাইয় ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোতে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনকে চিহ্নিত করা হয় আধুনিক গণতন্ত্রের তৃতীয় ঢেউ হিসেবে। অধ্যাপক সেভা গুনিস্কায়ের চিহ্নিত করা চতুর্থ ঢেউও ইতিহাসের পাতায় রেখে গেছে নিজের সময়ের ছাপ।

প্রথমত, নগররাষ্ট্র আর সাম্রাজ্যবাদের যুগ পেরিয়ে জাতিরাষ্ট্রের যুগে শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রকে গ্রহণের অন্যতম প্রক্রিয়া ছিল, রাজা সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি, এই ধারণাকে ছুঁড়ে ফেলা। রাজা জনসাধারণের মতোই মানুষ, শাসনকাঠামোর অংশমাত্র, এই ধারণা অসীম ক্ষমতা চর্চার সংস্কৃতিতে থাকা রাজারা সহজে মেনে নিতে চাননি। ফলে ফ্রান্সের রাজা দশম চার্লস সাংবিধানিক রাজতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে অসীম ক্ষমতার চর্চা করতে চেয়েছেন, কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছিলেন ব্রাজিলের রাজা পেদ্রো। রাজার এই ক্রমাগত অসীম ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টার জন্য এই পর্ব অনন্য হয়ে থাকবে। যদিও, এখনও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সরকারপ্রধান কিংবা রাষ্ট্রপ্রধান এখনো চর্চা করেন অসীম ক্ষমতা, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ করার মতো প্রতিষ্ঠান না থাকায় সরকারপ্রধানরা নিজেদের নিয়ে যান অবতারের পর্যায়ে।

দ্বিতীয়ত, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ আর উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের ঘটনাপ্রবাহে অসীম রাজতন্ত্র থেকে ইউরপের দেশগুলোতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থানে সাংবিধানিক শাসনতন্ত্রের আন্দোলন বিপুল জনপ্রিয়তা আর সফলতা পেলেও, রাজতন্ত্রের সুবিধাভোগী অংশ এই আন্দোলনে যুক্ত হয়নি। ফলে সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের যুগে জনগণের মধ্যে মোটাদাগে দুটি বিভাজন ছিল, রাজতন্ত্রের পক্ষে সমাজের রক্ষণশীল অংশ আর বিপক্ষে সংস্কারপন্থী অংশ। রক্ষণশীল আর সংস্কারপন্থী লিবারেলদের মধ্যে আবার বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ছিল। আধুনিক গণতন্ত্রের চর্তুথ ঢেউ হিসেবে চিহ্নিত সময়টিতে এই দুই অংশের আবারো সংঘাত উপস্থিত হয়, রাজার অসীম ক্ষমতা আর সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি ইস্যুতে। এই ঢেউয়ে জয়ী হয় সংস্কারপন্থীরা।

জুলাই বিপ্লব; Image Sources: Wikimedia Commons

তৃতীয়ত, আধুনিক বিপ্লবের চর্তুথ ঢেউয়ের সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ১৮৩০-৩১ সালে মধ্য ইউরোপ আর পশ্চিম ইউরোপের ঘটনাপ্রবাহকে। এই বিপ্লবের সময়ে ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে যেসব শাসনতান্ত্রিক অর্জন হয়েছিল, রাজা দশম চার্লস সেই অর্জনগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেন। ফ্রান্সের জনগণের বিদ্রোহ আর রাজনৈতিক অধিকারের জন্য আপোষহীনতা ব্যর্থ করে দেয় রাজা দশম চার্লসের চেষ্টাকে, পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় পার্লামেন্টের কর্তৃত্ব। এদিক থেকে জুলাই বিপ্লবকে (চতুর্থ ঢেউয়ের সময়) চিহ্নিত করা হয় ফরাসি বিপ্লবের (প্রথম ঢেউ) পরিপূরক হিসেবে। সাম্যের ধারণা, মানবিক মর্যাদার রাজনৈতিক দর্শন ফ্রান্স থেকে ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের অন্যান্য অংশে।

শাসনতন্ত্রের তাত্ত্বিক দর্শনে অগ্রগতির অংশ হওয়া ছাড়াও আধুনিক গণতন্ত্রের বিপ্লবের চতুর্থ ঢেউয়ের সময়টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ইউরোপের শিল্পবিপ্লবে। আধুনিক গণতন্ত্র এরপরও আরও অনেক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, সেগুলো উঠে আসবে পরবর্তী পর্বগুলোর আলোচনায়।

This article is written in Bangla about the fourth wave of historical evolution in modern democracy, knwon as romantic nationalist wave. 

All the necessary links are hyperlinked inside. 

Feature Image: School History

Related Articles

Exit mobile version