আমেরিকায় ১৮৫০ সালের একজন দাসের কথাই ধরা যাক। সে সময়ে একজন দাসের জীবনে খুব বেশি কিছু করার ছিল না। সে তার মনিবের আবাদী ক্ষেত্রভূমিতে অবস্থান করতে পারতো, যেখানে তাকে হাড়ভাঙ্গা খাটুনিনির্ভর জীবন বেছে নিতে হতো, তাকে প্রায়শই বর্বরোচিত শারীরিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো এবং দিনশেষে একটি অসম্পূর্ণ পরিবারে ফিরতে হতো- কেননা তার চোখের সামনেই তার আপনজনকে বিক্রয় করে দেয়া হতো। সকল দাসদের জীবনাবর্ত হুবহু এমন ছিল না, তবে এরূপ দাসত্বের শৃঙ্খলবন্দী থাকলে একজন দাস নিজের জীবনে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করতে পারে না। একজন দাসের ভাগ্যে দুই রকমের ললাটলিখন সম্ভব ছিল: এক, সেভাবেই নির্যাতিত হয়ে অন্তঃসারশূন্য জীবনে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়া, দুই, পালিয়ে যাওয়া! ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতীয় রাস্তাটিই বেছে নিতে শুরু করে অনেকে, যার ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে ঐতিহাসিক ‘পলায়নপথ’- ‘দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেলরোড’!