Welcome to Roar Media's archive of content published from 2014 to 2023. As of 2024, Roar Media has ceased editorial operations and will no longer publish new content on this website.
The company has transitioned to a content production studio, offering creative solutions for brands and agencies.
To learn more about this transition, read our latest announcement here. To visit the new Roar Media website, click here.

হলিউডের নামকরা সব চলচ্চিত্র স্টুডিও কথন

হলিউড, মার্কিন মুলুকের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। প্রতি বছর হলিউড থেকে কয়েকশ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। এসব চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং বিপণন করার জন্য শুধুমাত্র হলিউডেই রয়েছে কয়েকশ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে বিপণন হওয়া পণ্যের মধ্যে চলচ্চিত্র অন্যতম। প্রতি বছর দুনিয়া জুড়ে প্রায় কয়েক হাজার কোটি ডলারের চলচ্চিত্র বাণিজ্য হয়। হালের ‘ইনফিনিটি ওয়ার’ তার অন্যতম উদাহরণ। হলিউডের পুরো বছরের সামগ্রিক আয়ের মোটামুটি ৮০-৮৫ শতাংশ আসে মূলত ৬টি প্রধান প্রযোজনা সংস্থা থেকে। আজকের আয়োজন এই প্রধান ৬ চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা নিয়ে।

ওয়াল্ট ডিজনি

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার ২১.৮২ শতাংশ চলচ্চিত্র বাজার দখল করে ওয়াল্ট ডিজনি পিকচারস এখন হলিউডের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি মূলত দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির  (The Walt Disney Company) চলচ্চিত্র ব্যবসা বিভাগ। ডিজনির স্টার ওয়ারস, মারভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের মতো রয়েছে নামকরা সব ফ্রাঞ্চাইজি চলচ্চিত্র। বিভিন্ন শ্রেণির চলচ্চিত্রের জন্য প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি আলাদা বিভাগ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

  • ওয়াল্ট ডিজনি অ্যানিমেশন স্টুডিওস
  • ডিজনি লাইভ একশন
  • পিক্সারঅ্যানিমেশন  স্টুডিওস
  • মারভেল স্টুডিওস
  • লুকাসফিল্ম
  • ডিজনিনেচার
  • ডিজনিটুন স্টুডিওস
  • ওয়াল্ট ডিজনি পিকচারস; Source: Disney Wiki

১৯৩৪ সালে Snow White and the Seven Dwarfs নামের পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন বছর সময় নিয়ে নির্মাণকাজ শেষ করার পরে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেলে আগের সবধরনের পরিসংখ্যান ভেঙে দেয় এই চলচ্চিত্র। পরবর্তীতে Reluctant Dragon নামের চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জীবন্ত অ্যাকশন শ্রেণির চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করে। বিভিন্ন সময়ে নানা চুক্তির মধ্য দিয়ে অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানকেই একীভূত করে নেয় তারা। বর্তমানে পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যাকশন, অ্যানিমেশন, ভিডিও, সঙ্গীত এবং বিভিন্ন ধরনের মঞ্চায়নের মাধ্যমে তাদের ব্যবসার পরিধি গগনচুম্বী। যুক্তরাষ্ট্রের মোশন চলচ্চিত্র অন্যতম কর্ণধার সদস্য এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার ২১.৮২ শতাংশ চলচ্চিত্র বাজার দখল করে হলিউডে চলচ্চিত্র প্রযোজনার দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

ওয়ার্নার ব্রাদার্স

বর্তমানে হলিউডে ডিজনির পরেই ওয়ার্নার ব্রোস’এর অবস্থান। এই চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ওয়ার্নার ব্রোস এন্টারটেইনমেন্টের (Time Warner) চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা এবং বিপণন বিভাগ। ১৯২৩সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির বিস্তৃতি সময়ের সাথে সাথে অনেক বেড়েছে। মূল প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি বিভাগ এবং অন্তর্ভুক্ত সহায়ক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিভাগ

  • ইন্টার‍্যাক্টিভ
  • টেলিভিশন
  • অ্যানিমেশন
  • অ্যানিমেশন গ্রুপ
  • হোম ভিডিও
  • ডিজিটাল নেটওয়ার্ক
  • কনজ্যুমার প্রোডাক্টস
  • থিয়েটার ভেনচারস
  • স্টুডিও ফ্যাসিলিটিজ
  • ওয়াটারটাওয়ার মিউজিক

সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-

  • নিউলাইন সিনেমা
  • ক্যাসেলরক এন্টারটেইনমেন্ট
  • টারনার কর্পোরেশন
  • ডিসি এন্টারটেইনমেন্ট
  • ডিসি ফিল্মস
  • ফ্লাগশিপ
  • ড্রামাফিভার
  • ম্যাসিনিমা কর্পোরেশন
  • ফ্যানডানগো মিডিয়া

ওয়ার্নার ব্রোস পিকচার; Source: Logopedia – Fandom

৯৫ বছরের পুরনো এই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অফিস যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বারবাঙ্কে অবস্থিত। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং ভিডিও গেমই মূলত তাদের আয়ের উৎস। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০০ কর্মী কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮.৫ শতাংশ বাজার দখল করে আছে। ওয়ার্নার’এর ফ্রাঞ্চাইজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- হ্যারি পর্টার, লর্ড অব দ্য রিংস, হবিট, দ্য ডার্ক নাইট ট্রিলজি, ডিসি এক্সটেনডেড ইউনিভার্স ইত্যাদি।

ইউনিভার্সাল পিকচারস

এনবিসি ইউনিভার্সাল (Comcast) নামের মূল প্রতিষ্ঠানের চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা এবং বিপণন শাখা হিসেবে কাজ করছে ইউনিভার্সাল পিকচারস। আমেরিকার সবথেকে পুরনো এই চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর অবস্থিত। অন্যান্য প্রযোজনা সংস্থা মতোই এই প্রতিষ্ঠানটিরও বেশ কয়েকটি শাখা প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণ ব্যানার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য শাখাগুলো হচ্ছে-

  • ইউনিভার্সাল এনিমেশন স্টুডিওস
  • ইল্যুমিনেশন এন্টারটেইনমেন্ট
  • ফোকাস ফিচারস
  • ইউনিভার্সাল পিকচারস হোম এন্টারটেইনমেন্ট
  • ব্যাকলট মিউজিক

ইউনিভার্সাল পিকচারস’এর সহায়ক যে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে-

  • গ্রামারসি পিকচারস
  • হাইটপ রিলিজিং
  • ড্রিমওয়ার্কস এনিমেশন
  • আম্বলিন পার্টনারস
  • ওয়ার্কিং টাইটেল ফিল্মস
  • এনবিসি ইউনিভার্সাল এন্টারটেইনমেন্ট জাপান
  • ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল পিকচারস

ইউনিভার্সাল পিকচারস; Source: Vignette Wikia

১০০ বছরের পুরনো এই চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে বেশ কয়েকটি নামকরা ক্লাসিক সিনেমার রেকর্ড। আমেরিকাসহ বাইরের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বিস্তৃত। সর্বকালের সবচাইতে লাভজনক ৫০টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ৪টি চলচ্চিত্র এই প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার চলচ্চিত্র শেয়ারে বাজারে প্রতিষ্ঠানটি ১৪.৯৮ শতাংশ বাজার দখল করে বর্তমানে হলিউডে প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স

হলিউডের এই চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানটি মূলত ফক্স এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপের (21st Century Fox) মালিকানাধীন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অফিস অবস্থিত। হলিউডের অন্যতম প্রধান এই চলচ্চিত্র  প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের ঝুলিতে অ্যাভাটার, আইস এজ, এক্স-মেন, ডাই হার্ড, প্ল্যানেট অব দ্য এপস, নাইট অ্যাট দ্য মিউজিয়াম, ফ্যান্টাসটিক ফোরের মতো নামকরা চলচ্চিত্র রয়েছে। মোশন চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি আলাদা বিভাগ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফক্স’এর অন্তর্গত বিভাগগুলো হচ্ছে-

  • টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স হোম এন্টারটেইনমেন্ট
  • ফক্স ২১ টেলিভিশন স্টুডিওস
  • টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স টেলিভিশন
  • টোয়েন্টিয়েথ টেলিভিশন
  • টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স এনিমেশন
  • ফক্স সার্চলাইট পিকচারস
  • জিরো ডে ফক্স
  • ফক্স ২০০০ পিকচারস
  • ফক্স ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট

সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-

  • ব্লু স্কাই স্টুডিওস
  • ফক্স স্টার স্টুডিওস (ভারত)
  • ফক্স স্টুডিওস অস্ট্রেলিয়া
  • নিউ রিজেন্সি প্রোডাকশনস (রিজেন্সি এন্টারপ্রাইজের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত প্রতিষ্ঠান)

টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স; Source: Deviantart.net

১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স ২০১৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত মূলত নিউজ কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। আমেরিকার মোশন চলচ্চিত্র এসোসিয়েশনের অন্যতম প্রধান এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার চলচ্চিত্র বাজারের ১২.৯২ শতাংশ দখল করে চতুর্থ অবস্থানে আছে।

কলাম্বিয়া পিকচারস

যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার ৯.৮৭ শতাংশ চলচ্চিত্র বাজার দখল করে কলাম্বিয়া পিকচারস এখন হলিউডের চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং বিপণন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।  ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি মূলত সনি পিকচারস এন্টারটেইনমেন্ট (Sony) গ্রুপের অন্তর্গত। প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের ঝুলিতে স্পাইডার-ম্যান, মেন ইন ব্ল্যাক, আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং রেসিডেন্ট ইভিলের মতো সফল চলচ্চিত্র রয়েছে। মোশন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি বিভাগ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে-

  • সনি পিকচারস ক্লাসিকস
  • ডেসটিনেশন ফিল্মস
  • স্টেজ ৬ ফিল্মস
  • ট্রি-স্টার প্রোডাকশনস
  • লেফট ব্যাংক পিকচারস
  • ট্রাইঅ্যাম্প ফিল্মস

সনি কর্পোরেশনের এই চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রতিষ্ঠানটির অফিস যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। সারা পৃথিবী জুড়েই প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র বিপণন করে থাকে।

কলাম্বিয়া পিকচারস; Source: twitter

প্যারামাউন্ট পিকচারস

ভায়াকম (National Amusements) কোম্পানির চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে প্যারামাউন্ট পিকচারস (Paramount Pictures)। ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অফিস অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানটিরও বেশ কয়েকটি নামকরা চলচ্চিত্র রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- টাইটানিক, ট্রান্সফরমারস, ইন্ডিয়ানা জোন্স, মাদাগাস্কার ইত্যাদি। মোশন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি বিভাগ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে-

  • বেট ফিল্মস
  • কমেডি সেন্ট্রাল ফিল্মস
  • এমটিভি ফিল্মস
  • সিএমটি ফিল্মস
  • নিকেলোডেন মুভিস
  • ভায়াকম ১৮ মোশন পিকচারস
  • প্যারামাউন্ট ফেমাস পিকচারস
  • ইনসারজ পিকচারস
  • এমটিভি অ্যানিমেশনস
  • প্যারামাউন্ট অ্যানিমেশনস

প্যারামাউন্ট পিকচারস; Source: Im Just Creative

১৯১২ সালে যাত্রা শুরু করা হলিউডের অন্যতম প্রাচীন এই চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে আমেরিকা এবং কানাডার চলচ্চিত্র বাজারের ৪.৮২ শতাংশ দখল করে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানও সারা পৃথিবীজুড়ে চলচ্চিত্র বিপণন করে থাকে।

ফিচার ইমেজ- Techcrunch.com

Related Articles