মানব চিড়িয়াখানা: মানবতার এক চরম অবমাননার ইতিহাস

ছুটির দিনে আমরা যেসব জায়গায় যাই, তার মাঝে অন্যতম আকর্ষণীয় এক জায়গা হলো চিড়িয়াখানা। নানা ধরণের পশুপাখিতে ভরপুর এ জায়গায় গেলে বন্য প্রাণীদের দৈহিক গড়ন, চলাফেরা, জীবন-যাপন পদ্ধতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কেই আমরা জানতে পারি। এখন মনে করুন, ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী অর্থাৎ এলিয়েনদের একটি দল এসে পৃথিবী থেকে কয়েকজন মানুষকে ধরে নিয়ে গেলো যাদের মাঝে আপনিও একজন। তাদের গ্রহে যেহেতু আপনি নিজেই একজন এলিয়েন, তাই আপনাকে প্রদর্শনের জন্য তারা কোনো চিড়িয়াখানায় রাখলো। সেখানে দিনভর নানা দর্শনার্থী আসে, আপনার দিকে এটা-সেটা ছুঁড়ে দেয়, ভিনগ্রহের ভাষায় আপনার উদ্দেশ্যে নানা রকম মন্তব্য করে এবং এমনই আরো অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস আপনার সাথে ঘটতে শুরু করলো। তখন আপনার কেমন লাগবে একবার কল্পনা করুন তো।

এখন যদি আমি বলি, কোনো এলিয়েন নয়, বরং মানুষের স্বজাতিই এককালে তাকে খাঁচায় বন্দী করে রাখতো বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় দেখানোর জন্য, তাহলে কি আপনি সেটা বিশ্বাস করবেন? “এহ্‌, যত্তসব আজগুবি কথাবার্তা”- এটুকু বলে আমার দিকে একটু অবজ্ঞার দৃষ্টিতেও তাকাতে পারেন আপনি। কিন্তু সত্যি বলছি, এককালে আসলেই এমন চিড়িয়াখানা ছিলো যেখানে বন্দী রাখা হতো আমাদেরই ভাই-বোনদের! আর সেসব চিড়িয়াখানার গল্প বলতেই আজকের এ লেখা।

‘মানব চিড়িয়াখানা (Human Zoo)’ কিংবা ‘নৃতত্ত্ব বিষয়ক প্রদর্শনী (Ethnological Exposition)’ নামক এ অমানবিক, বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক প্রথার প্রচলন ছিলো উনিশ, বিশ ও একুশ শতাব্দীর সময়টি জুড়ে। সেসব জায়গায় মূলত বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা আদিবাসীদের দেখানো হতো। পাশ্চাত্য সভ্যতার ইউরোপীয়দের তুলনায় অন্যান্য অ-ইউরোপীয়দের (কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের বেলাতেও) জীবনযাপন পদ্ধতি কতটা আদিম, কতটা অনুন্নত তা বোঝাতেই এসব প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো।

m1

চিত্রঃ ১৯২৮ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে একটি মানব প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপন

এমন মানব চিড়িয়াখানা ঠিক কবে থেকে চালু হয়েছিলো তা সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে মেক্সিকোর টেনোকটিট্‌লান (Tenochtitlan) এর নবম শাসক দ্বিতীয় মক্টেজুমার (রাজত্বকাল ১৫০২-১৫২০ খ্রিষ্টাব্দ) একটি চিড়িয়াখানার কথা জানা যায় যেখানে নানা রকম পশুপাখির পাশাপাশি বামন, আলবিনো এবং কুঁজোদেরও দেখানো হতো। রেনেসাঁ যুগে ইতালির মেদিচি পরিবারও এর সাথে যুক্ত ছিলো। যেমন- ষোড়শ শতাব্দীর দিকে কার্ডিনাল হিপোলাইটাস মেদিচির সংগ্রহে বিভিন্ন ধরণের জন্তু-জানোয়ারের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষও ছিলো! এদের মাঝে ছিলো তুর্কী, আফ্রিকান, মুর, ভারতীয় ইত্যাদি নানা জাতির মানুষ।

আমেরিকান রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও প্রদর্শনীর মালিক পি. টি. বার্নাম (১৮১০-১৮৯১) ১৮৩৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আফ্রিকান-আমেরিকান ক্রীতদাসী জয়েস হেথকে প্রদর্শন করেছিলেন। বার্নাম হেথের প্রদর্শনী থেকে টাকা কামাতে মিথ্যে গুজব ছড়িয়েছিলেন যে, হেথ আসলে জর্জ ওয়াশিংটনের ১৬১ বছর বয়সী দুধ মা! এছাড়া তিনি জোড়া লাগানো দুই জমজ চ্যাং ও ইং বাঙ্কারকেও প্রদর্শনীতে তুলেছিলেন। ১৪৯৩ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাসও আমেরিকার আদিম অধিবাসীদের নিয়ে এসেছিলেন স্পেনে।

m2

চিত্রঃ পি. টি. বার্নাম

m3

চিত্রঃ চ্যাং (ডানে) ও ইং (বামে) বাঙ্কার

এ অপসংস্কৃতির আরেক পরিচিত শিকার ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এক নারী, নাম তার সার্তজি বার্টম্যান। স্টিটোপিজিয়ার (Steatopygia) ফলে তার পশ্চাদ্দেশ ছিলো তুলনামূলক বড়। এজন্যই মূলত তাকে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে ‘হটেন্‌টট ভেনাস (Hottentot Venus)’ নামে দেখানো হতো। বর্তমানে ‘হটেন্‌টট’ শব্দটিকে অপমানসূচক হিসেবে দেখা হলেও তখনকার দিনে তার গোত্র খোইয়ের (Khoi) লোকদের বোঝাতেই এ শব্দটি ব্যবহার করা হতো। আর ‘ভেনাস’কে তো ধরা হয় ভালোবাসার রোমান দেবী হিসেবে। ১৮১৫ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত লন্ডন ও ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বার্টম্যানকে দেখানো হতো।

m4

চিত্রঃ সার্তজি বার্টম্যান

১৮৫০ সালের দিকে এল সালভাদরের মাইক্রোসেফালিতে আক্রান্ত দুই বোন ম্যাক্সিমো ও বার্তোলাকে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শন করা হয়েছিলো। উল্লেখ্য, মাইক্রোসেফালিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হয়।

চিত্রঃ ম্যাক্সিমো ও বার্তোলা

চিত্রঃ ম্যাক্সিমো ও বার্তোলা

১৮৭০ সালের কাছাকাছি সময় থেকেই মূলত এ মানব চিড়িয়াখানাগুলো বেশি জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করে। প্যারিস, হামবুর্গ, অ্যান্টওয়ের্প, বার্সেলোনা, লন্ডন, মিলান, নিউ ইয়র্কে এসবের দেখা মিলতো।

কার্ল হ্যাজেনব্যাক (১৮৪৪-১৯১৩) ছিলেন একজন সুপরিচিত বণিক যিনি মূলত বন্য প্রাণী ও মানুষ নিয়েই ব্যবসা করতেন। ১৮৭৪ সালে তিনি সামোয়া (Samoa) ও সামির (Sami) অধিবাসীদের প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৭৬ সালে তিনি তার এক সহযোগীকে সুদানে পাঠিয়েছিলেন কিছু বন্য প্রাণী এবং একইসাথে কিছু নুবিয়ান (Nubian) মানুষকে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসার অভিপ্রায়ে। নুবিয়ানদের এ প্রদর্শন সারা ইউরোপেই বেশ নাম কামিয়েছিলো। এটি দেখানো হয়েছিলো প্যারিস, লন্ডন ও বার্লিনে।

চিত্রঃ কার্ল হ্যাজেনব্যাক

চিত্রঃ কার্ল হ্যাজেনব্যাক

চিত্রঃ হ্যাজেনব্যাকের একটি প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপন

চিত্রঃ হ্যাজেনব্যাকের একটি প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপন

১৮৭৭ সালে ফ্রান্সের শিশুপার্ক জার্ডিন ডি’অ্যাক্লিম্যাটাশনে (Jardin D’acclimatation) এ ধরণের দুটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিলো যেখানে নুবিয়ান ও ইনুয়িটদের দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। শুধুমাত্র মানব প্রদর্শনীর কারণে সেই বছর তাদের দর্শনার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে দশ লাখের ঘরে পৌঁছায়। ১৮৭৭ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত জার্ডিন ডি’অ্যাক্লিম্যাটাশনে ত্রিশটির মতো মানব প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিলো।

১৮৭৮ ও ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে একটি নিগ্রো গ্রামের মডেল দেখানো হয়। এসব গ্রামের মডেলে সাধারণত সেসব গ্রামের বেশ কিছু অধিবাসীকে এনে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, সংস্কৃতি ইত্যাদি তুলে ধরার চেষ্টা করা হতো। কিন্তু তারপরেও, ওগুলো চিড়িয়াখানাই ছিলো। এর মাঝে ১৮৮৯ সালের প্রদর্শনীতেই এসেছিলো ২৮ মিলিয়ন মানুষ! সেবারের মূল আকর্ষণ ছিলো ৪০০ জন আদিবাসী যাদেরকে সেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছিলো। ১৯০৬ ও ১৯২২ সালে মার্সেইয়ে এবং ১৯০৭ ও ১৯৩১ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোতে যে মানুষদের দেখানো হয়েছিলো তারা সবাই ছিলো খাঁচায় বন্দী, ছিলো নগ্ন কিংবা অর্ধনগ্ন! যদি ভেবে থাকেন এতে মানবতার চরম অবমাননা হয়েছিলো, তাহলে আপনাকে আরো চরমভাবে বিস্মিত করবে একটি পরিসংখ্যান। ১৯৩১ সালে প্যারিসের সেই প্রদর্শনীটি চলেছিলো ৬ মাসে ধরে যাতে ৩৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এসেছিলো!

উনিশ শতকের শেষের দিকে হ্যাজেনব্যাক বিশ্বের নানা স্থান থেকে আদিবাসীদের এনে এমন প্রদর্শনীর আয়োজন করে পকেট ভারী করতে লাগলেন। ১৮৮৬ সালে শ্রীলঙ্কার আদিবাসীদের নিয়ে তিনি এক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন। ১৮৯৩/১৮৯৪ সালে ল্যাপল্যান্ডার্সদের নিয়ে হামবুর্গে তিনি একই ধরণের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন।

চিত্রঃ ল্যাপল্যান্ডার্সদের প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপন

চিত্রঃ ল্যাপল্যান্ডার্সদের প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপন

১৮৯৬ সালে দর্শনার্থী বাড়ানোর লক্ষ্যে সিনসিনাটি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আমেরিকার সিয়ক্স (Sioux) আদিবাসীদের ১০০ জনকে চিড়িয়াখানায় এসে একটি মডেল গ্রাম বানিয়ে থাকার আমন্ত্রণ জানায়। সেই আদিবাসীরা সেবার ৩ মাস ধরে সেই চিড়িয়াখানায় ছিলো।

ম্যাডিসন গ্র্যান্ট ছিলেন একজন আমেরিকান আইনজীবী, শখের নৃতত্ত্ববিদ, নিউ ইয়র্ক জুওলজিক্যাল সোসাইটির প্রধান। ১৯০৬ সালে তিনি ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় কঙ্গোর পিগমি ওটা বেঙ্গাকে (Ota Benga) অন্যান্য প্রাণীদের সাথে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন।

চিত্রঃ ম্যাডিসন গ্র্যান্ট

চিত্রঃ ম্যাডিসন গ্র্যান্ট

চিত্রঃ উইলিয়াম হর্নাডে

চিত্রঃ উইলিয়াম হর্নাডে

গ্র্যান্টের নির্দেশে চিড়িয়াখানার পরিচালক উইলিয়াম হর্নাডে প্রথমে বেঙ্গাকে শিম্পাঞ্জীদের সাথে একই খাঁচায় রাখেন। এরপর ওরাংওটাং ও তোতাপখির সাথেও তাকে রাখার ব্যবস্থা করে হয়। শিম্পাঞ্জীর সাথে তাকে রাখার পেছনের কারণটিও ছিলো অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। তারা বোঝাতে চেয়েছিলো ইউরোপিয়ানদের তুলনায় বেঙ্গার মতো আফ্রিকানরাই এইপদের (Ape) সাথে বিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত। বেঙ্গাকে তীর-ধনুক দিয়ে বিভিন্ন নিশানায় লক্ষ্যভেদ করতে হতো, সুতা পাকিয়ে দেখাতে হতো ওরাংওটাংয়ের সাথে লড়াইয়েও নামতে হতো! তার খাঁচার বাইরে লেখা ছিলো- Ota Benga, a human exhibit, in 1906. Age, 23 years. Height, 4 feet 11 inches (150 cm). Weight, 103 pounds (47 kg). Brought from the Kasai River, Congo Free State, South Central Africa, by Dr. Samuel P. Verner. Exhibited each afternoon during September.এতটা ঘৃণিত কাজের পরেও তখন কিন্তু তেমন প্রতিবাদই করে নি সেখানকার জনতা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্যই পাওয়া যায়। প্রতিবাদে নেমেছিলেন দেশটিতে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ যাজকেরা। একজন মানুষকে এভাবে শিম্পাঞ্জীদের সাথে প্রদর্শনের ঘোর বিরোধীতা করেন তারা। কিন্তু নিউ ইয়র্কের তখনকার মেয়র জর্জ বি. ম্যাকক্লেলান জুনিয়র এসবকে খুব একটা আমলে না নিয়ে বরং যাজকদের সাথে সাক্ষাৎই করলেন না। একইসাথে এমন কাজের জন্য হর্নাডের প্রশংসাও করলেন তিনি। হর্নাডের মাঝেও এ নিয়ে কোনো অনুশোচনাবোধ ছিলো না। তার ভাষ্যমতে, তিনি কেবল একটি নৃতত্ত্ব বিষয়ক প্রদর্শনীরই আয়োজন করেছেন। কিন্তু বিতর্কের তীর ধেয়ে আসতে থাকায় শেষ রক্ষা আর হলো না। ১৯০৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রদর্শনী শুরুর মাত্র দুদিন পরেই হর্নাডে তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু আমেরিকার সাদা চামড়ার কিছু মানুষের মাঝে বোধহয় মনুষ্যত্ব বলে কিছু ছিলো না। বেঙ্গা যখন চিড়িয়াখানায় হেঁটে বেড়াতো, তখন তার উদ্দেশ্যে তারা নানা রকম কটুক্তি ও বিদ্রুপের বাণী ছুঁড়ে দিতো।

চিত্রঃ ওটা বেঙ্গা

চিত্রঃ ওটা বেঙ্গা

১৯৩০ সালের দিকে আমেরিকায় এ পরিস্থিতি আরো অধঃপতনের দিকে চলে যায়। তখন সেখানকার কিছু চিড়িয়াখানায় শিক্ষার নাম দিয়ে নগ্ন নৃত্যের চল শুরু হয়!

মানব চিড়িয়াখানা চলেছে এরপরে আরো বহু দিন। ১৯৫৮ সালে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে এক কঙ্গোলিজ গ্রামের মডেল দেখানো হয়। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে ফ্রান্সে আইভরি কোস্টের একটি মডেল গ্রাম দেখানো হয়। ২০০৫ সালের জুলাইয়ে জার্মানির অগসবার্গ চিড়িয়াখান্য এক আফ্রিকান গ্রামের মডেল দেখালে সেটি মারাত্মক সমালোচনার শিকার হয়। ২০০৭ সালে অ্যাডিলেডে এমন এক আয়োজন করা হয় যার উদ্দেশ্য ছিলো এইপদের জন্য নতুন আরেকটি খাঁচা বানানোর অর্থ সংগ্রহ। এমনকি এ বছরের ২১ ফেব্রুয়ারিতে Duluth News Tribune এ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে জেরি ফ্রেডরিকসন লেক সুপিরিয়র চিড়িয়াখানায় আমেরিকান আদিবাসীদের ক্যাম্প স্থাপনের পরামর্শ দেন যাতে করে তাদের দেখতে বাস ভরে দর্শনার্থী আসতে শুরু করে!

ইতিহাসের পাতা থেকে এসব মানব চিড়িয়াখানার আরো কিছু ছবি দেখা যাক।

চিত্রঃ চিড়িয়াখানার প্রাণীদের সাথে পাশাপাশি থাকা আদিবাসীরা

চিত্রঃ চিড়িয়াখানার প্রাণীদের সাথে পাশাপাশি থাকা আদিবাসীরা

চিত্রঃ ১৯৫৮ সালে ব্রাসেলস থেকে তোলা ছবি। ‘কালো’ বলেই তাকে রাখা হয়েছিলো চিড়িয়াখানায়। সেখানে তাকে খাবার দিচ্ছে এক ‘সাদা’ চামড়ার মানুষ। কিন্তু তার মনটা কি সাদা?

চিত্রঃ ১৯৫৮ সালে ব্রাসেলস থেকে তোলা ছবি। ‘কালো’ বলেই তাকে রাখা হয়েছিলো চিড়িয়াখানায়। সেখানে তাকে খাবার দিচ্ছে এক ‘সাদা’ চামড়ার মানুষ। কিন্তু তার মনটা কি সাদা?

চিত্রঃ ওরা কোনো পশু না, একজন মানুষকে দেখছে

চিত্রঃ ওরা কোনো পশু না, একজন মানুষকে দেখছে

চিত্রঃ এক নিগ্রো মডেল গ্রামে মা ও সন্তান

চিত্রঃ এক নিগ্রো মডেল গ্রামে মা ও সন্তান

চিত্রঃ মানব চিড়িয়াখানা – ১

চিত্রঃ মানব চিড়িয়াখানা – ১

চিত্রঃ মানব চিড়িয়াখানা – ২

চিত্রঃ মানব চিড়িয়াখানা – ২

চিত্রঃ পিগমিদের একপ্রকার জোর করেই নাচতে বাধ্য করা হতো

চিত্রঃ পিগমিদের একপ্রকার জোর করেই নাচতে বাধ্য করা হতো

চিত্রঃ ১৯০৪ সালে সেন্ট লুইসের এক তীর-ধনুক প্রতিযোগিতা থেকে তোলা ছবি। এমন প্রতিযোগিতাকে বলা হতো ‘অসভ্যদের অলিম্পিক প্রদর্শনী’

চিত্রঃ ১৯০৪ সালে সেন্ট লুইসের এক তীর-ধনুক প্রতিযোগিতা থেকে তোলা ছবি। এমন প্রতিযোগিতাকে বলা হতো ‘অসভ্যদের অলিম্পিক প্রদর্শনী’

চিত্রঃ ফ্রান্সের অনেকগুলো মানব চিড়িয়াখানার মাঝে একটি

চিত্রঃ ফ্রান্সের অনেকগুলো মানব চিড়িয়াখানার মাঝে একটি

সময় পাল্টে গেছে, পাল্টে গেছে আমাদের চারপাশের সমাজ ব্যবস্থা। নিত্যনতুন প্রযুক্তিপণ্য আমাদের জীবনকে করেছে আরো সহজ ও সুন্দর। কিন্তু কিছু মানুষের মনে সাদা-কালোর বিভেদরেখা টানা বৈষম্যবৃক্ষটি আজও রয়ে গেছে। এরই ফসল হিসেবে পাশ্চাত্য দেশগুলোয় আজও মাঝে মাঝেই সাদা-কালোর বিবাদ, বৈষম্য, এমনকি খুনোখুনির ঘটনা পর্যন্ত আমাদের নজরে আসে। আশা করি মানুষ একদিন তার প্রকৃত মানবাত্মার সন্ধান পেয়ে সরে আসবে বর্ণবৈষম্যের এ অন্ধকার ছায়া থেকে, গড়ে তুলবে বৈষম্যহীন সুন্দর এক পৃথিবী।

Related Articles

Exit mobile version